শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় ভিন্নখাতে প্রবাহের অপচেষ্টা

ফুলবাড়ী দিনাজপুর সংবাদদাতা : দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী দু’শিক্ষকের বিরুদ্ধে রজুকৃত বিভাগীয় মামলা তৃতীয় দফা তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত কমিটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরন না করায় এবং একটি স্বার্থানেষী মহলের অপতৎপরতার কারণে তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত ৩১ ডিসেম্বর/১৬ তারিখে দাখিলের সময় সীমা পেরিয়ে গেলেও হ য ব র ল অবস্থা বিরাজ করছে। দ্রুত সংকট নিরসন না হওয়ায় শিক্ষাক্রম চরম ভাবে ব্যহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে- তদন্তকালে অভিযুক্ত ওই দু’শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত না করে তাদেরই ভাড়াটিয়া সমর্থক স্বাক্ষীদের দিয়ে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার ব্যাক্তিগত কর্মময় জীবন নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। যা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং তদন্ত কমিটি প্রদত্ত চিঠির সঙ্গে কোন সঙ্গতি নেই। জানাগেছে অভিযুক্ত দু’শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা শিক্ষা অফিসার দিনাজপুর সমেশ চন্দ্র মজুমদার (ভারপ্রাপ্ত) এর স্মারক নং- জেপ্রাশিঅ/দিনাজ/বিঃমাঃ/৩৫৬৩/১২ তারিখ-০৭/১২/২০১৬ইং এর আলোকে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান বিরামপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান স্মারক নং- উশিঅ/বিরাম/দিনাজ/৭১৩(৭) তারিখ-২৬/১২/১৬ইং স্বাক্ষরিত তদন্ত নোটিশে স্পষ্ট বলা হয় পার্বতীপুর উপজেলার মৌলভীর ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব হাফিজুর রহমান ও জনাব রেবেকা খানমের বিরুদ্ধে রজুকৃত বিভাগীয় মামলার তদন্ত হবে। অথচ তদন্ত কালীন সময়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত রহস্যজনক।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষ দর্শী আফজাল মাষ্টার, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী, ঐ বিদ্যালয়ের সাবেক পি.টি এ সভাপতি আতাউর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হায়দার আলী জানান তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে এসে ওই দু’শিক্ষকের নিকট আত্মীয় সহ তাদের মনোনিত ৪০/৫০জন ব্যক্তিকে একটি শ্রেণী কক্ষে সমবেত করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ সভাপতি শাহাবুদ্দিন শাহ্ কে বয়ঃজেষ্ট্য ব্যাক্তি আখ্যায়িত করে তদন্ত বিষয়ে ব্রিফ করার সুযোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট দাখিলকৃত প্রথম ও দিতীয় দফা গোপনীয় তদন্ত প্রতিবেদন সমূহ জন সম্মূখে প্রতিটি লাইন উপস্থাপন করা হয়েছে।
তদন্ত কার্য শুরু করা হয়েছে পূর্বের নিস্পত্তিকৃত একটি বিষয়কে পূনরায় উদজীবিত করে অর্থাৎ, ৩০ আগষ্ট/১৬ প্রথম দফা তদন্তের দিন সহ শিক্ষিকা রেবেকা খানম প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দাখিল কৃত কাউন্টার অভিযোগ প্রমানে ব্যার্থ হয়ে মুচলেকা দিয়ে স্বেচ্ছায় ক্ষমা প্রার্থনা করে যে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল সেই অভিযোগ নতুন করে জন সম্মূক্ষে উপস্থাপন করার কোন প্রয়োজনীয়তা না থাকা শর্তেও পাঠ করে শুনানো হয়েছে। ওই দু’শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব হীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক প্রতিবেদন উপজেলা শিক্ষা অফিস দাখিলের ৯ মাস পর শিক্ষিকা কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগ উপস্থাপন সুষ্ঠ তদন্ত চরম ভাবে ব্যহত করার শামিল।
আওয়ামীলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন শাহ্ এর নেতৃত্বে একটি মহল বারংবার রজুকৃত বিভাগীয় মামলার আপোশের দাবি তুলে তদন্তকাজ ব্যহত করার অপতৎপরতা চালায়। দায়িত্বহীনতার অভিযোগ দু’দফা তদন্তে প্রমানিত হওয়ায় ওই দু’শিক্ষকের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলা রজু করার সুপারিশ করেছে যা প্রধান শিক্ষক কর্তৃক আপোষ রফার সুযোগ নেই।
তদন্ত কাজে সম্পৃক্ত নয়, বিদ্যালয় এলাকা থেকে ৪/৫ কিঃ মিঃ বসবাসকারী ব্যাক্তি, বিদ্যালয়টির ক্ষতি সাধনে লিপ্ত ব্যাক্তি এবং প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ সহ অভিযুক্ত দু’শিক্ষকের নিকট আতিœয় এমন সব ব্যাক্তিদের সাক্ষ্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কথিত হিউম্যান রাইটর্স কর্মী, নাম সর্বস্ব মাসিক পত্রিকার প্রতিনিধি সহায়ক ক্যামেরা পার্সন ও শাহাবুদ্দিন শাহ্ কে তদন্ত স্থলে সমস্ত দিন অবস্থান করার সুযোগ দানের ফলে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ চরিতার্থ হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ