বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

তেরখাদার হাড়িখালিতে কর্মসংস্থানের অভাবে আশ্রয়ন ছাড়ছে বেশিরভাগ পরিবার

খুলনা অফিস : বর্ষা মওসুমে পানিতে ডুবে যায় বসত বাড়ি । অনেক সময় ঘরের মধ্যেও পানি উঠে। রান্না-বান্না করা যায় না। খাটের ওপরে বসে পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটাতে হয় রাত। আর শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ব্যাগে করে নিয়ে যেতে হয়। কথাগুলো বলছিলেন খুলনার তেরখাদার হাড়িখালি আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা হাজেরা বেগম।
ওই একই প্রকল্পের বাসিন্দা রত্না বেগম জানান, বসত ঘর সারা বছর স্যাঁতস্যেঁতে থাকে। চালের টিন ভেঙ্গে পড়েছে। পিলার খসে পড়ছে। আর বেড়া দিয়ে প্রতিনিয়ত বাতাস ঢোকে। ফলে ঘরগুলো বসবাসের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
শুধু জলাবদ্ধতা আর জরাজীর্ণ ঘরবাড়ি নয়। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে আশ্রয়ন ছাড়ছে বেশিরভাগ পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে এবং ওই প্রকল্পে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হত-দরিদ্র ভূমিহীন-ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের জন্য ২০০২ সালে আশ্রয়ন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করে সরকার। ওই প্রকল্পের আওতায় তেরখাদার হাড়িখালিতে একটি প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। ওই প্রকল্পে ৩৮০টি ছিন্নমূল ও হত-দরিদ্র পরিবার পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু প্রকল্পটি বর্তমান বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। ফলে এসব ইউনিটের বাসিন্দারা পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বেশিরভাগ ইউনিট খালি হয়ে পড়েছে। আর যারা বসবাস করছেন তারা অনেক কষ্টে জীবন-যাপন করছেন।
রিক্তা খাতুন ও মাছুমা বেগম বেগম জানান, প্রকল্পে ইউনিটগুলো বসবাসের উপযোগী না। প্রকল্প এলাকার আশপাশে কোন হাট-বাজার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। আবার নিরাপত্তার অভাব থাকায় অনেকেই চলে গেছেন। আবার যাদের বাড়ি-ঘর ও জমি থাকতে অনিয়ম করে বরাদ্দ পেয়েছিলেন; তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে এমন ভয়ে পালিয়েছেন।
তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বসবাসের অনুপযোগী ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকাসহ নানা অসুবিধার কারণে কিছু পরিবার প্রকল্প ছাড়ছে।
 আবার অনেক পরিবার বাড়ি নির্মাণ করেছে। তবে বর্তমানে বেহাল ইউনিটগুলো মেরামতের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিসরনে পার্শ্ববর্তী নদী ও খাল খনন করা হচ্ছে। এছাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের যেসব ইউনিট খালি হয়েছে। সেগুলোতে হত-দরিদ্র ভূমিহীন-ছিন্নমূল পরিবার পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আর রাজনৈতিক বিবেচনায় যারা পেয়েছেন তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ