সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সেঞ্চুরি করে ব্যাটেই জবাব দিলেন মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্টার : হায়দরাবাদে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিং কান্ডারি হিসেবে আবির্ভাব হন অধিনায়ক মুশফিক। ভারতের পাহাড়সম রানের বিপরীতে ব্যাট হাতে দলকে একাই অনেক দূর টেনে আনেন তিনি। ম্যাচের তৃতীয় দিনে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিক। গতকাল  চতুর্থ দিনে ব্যাটিংয়ে  নেমেই  প্রথম ওভারে আগের দিনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী মিরাজকে হারান তিনি। ভুবনেশ্বর কুমারের করা প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই মিরাজ বোল্ড হলে কিছুটা ধাক্কা খান মুশফিক। তারপরও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে ক্রিজে আকড়ে থেকে সেঞ্চুরি তুলে নেন টাইগার অধিনায়ক।  উমেশ যাদবের করা ইনিংসের ১১৭ তম ওভাওে প্রথম বলটিকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। আগের দিনের ২০৬ বলে ৮১ রানের পর গতকাল সেঞ্চুরি পূর্ন করতে খেলেন আরো ২৯ বল।  সেঞ্চুরি করতে ২৩৭ বল মোকাবেলা করে ১৩টি চার ও এক ছক্কা হাঁকান তিনি। টেস্টে ভারতের বিপক্ষে এটি মুশফিকের দ্বিতীয় এবং ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। ২০০০ সালে দেশের মাটিতে অভিষেক টেস্টে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করিেছলেন আমিনুল ইসলাম বুলবল। এবার ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন মুশফিক। এটি ভারতে যেকোন ফরমেটে বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। পাশাপাশি চতুর্থ বাংলাদেশী হিসেবে টেস্টে  ৩০০০ রানের মাইলফলক পার হলেন। ৩০৪৯ রান নিয়ে  সর্বোচ্চ রানের তালিকায় তৃতীয় তৃতীয় নম্বরে উঠে এলেন মুশফিক। পিছনে ফেললেন হাবিবুল বাশারকে। সবার উপরে তামিম, দ্বিতীয় স্থানে সাকিব।  ইশান্ত শর্শার করা ইনিংসের ১১৫তম ওভারের  প্রথম বল পুল করে ফাইন লেগ দিয়ে পাঠান গ্যালারিতে। ভারতের ইনিংসে জাদেজা ও ঋদ্ধিমান শাহের দুটি এবং মুরালি বিজয়ের একটি সহ  মোট পাচ ওভার  বাউন্ডারীর বিপরীতে একমাত্র মুশফিকই দুই ছক্কা হাকান। টেস্ট ক্রিকেটে নি:সন্দেহে এখনও দেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। নিজের ব্যাটিং শৈলীর পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে,টেস্ট ক্রিকেটে কিভাবে উইকেট ধরে রাখার পাশাপাশি দলের ইনিংসও এগিয়ে নেয়া যায়, তার এক অনন্য প্রর্দশনী উপহার দিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তৃতীয় দিন শেষ বিকেলে ইশান্ত শর্মার করা সবশেষ বলের আগেরটিতে আবারো আঘাত পান  ডান হাতের বৃদ্ধাগুলিতে। তবে পরের বলেই ডিপ স্কোয়ার দিয়ে বাউন্ডারী। শেষবলে আবারো বাউন্সার হেলমেট ছুয়ে য়ায়। তবে মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে  অবিচ্ছিন্ন হয়েই মাঠ ছাড়েন মুশফিক। নামের পাশে স্কোর অপরাজিত ৮১ রান।  গতকাল সকালেও ভারতীয় পেসররা  বারবার বাউন্সার দিয়ে চেষ্টা করেছেন মুশফিককে মাঠের বাইরে পাঠাতে। তবে সবকিছু উপেক্ষ করে অবিচল ছিলেন। আশ্বিনের বলে উইকেটে রক্ষক ঋদ্ধিমান শাহের হাতে নিজের ১২৭ রানে  (২৬২ বলে) শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মুশফিক, দলের স্কোর তখন ৩৮৮। পরবর্তীতে ভারতের ইনিংসে প্রথম দুই উইকেটের পতনে তাসকিনের বলে দুটিক্যাচও নেন মুশি। বাংলাদেশ ২৯৯ রানে পিছিয়ে থাকলেও, ভারত ফলো অনে না পাঠিয়ে নিজেরা দ্বিতীয় দফায় ব্যাটিংয়ে নামে।  সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করে ইনজুরিতে পড়েন, দ্বিতীয় ইনিংসে সে অবস্থায়ই মাঠে নামেন। তবে  খেলতে পারেননি দ্বিতীয় টেস্ট। সফরের আগে ভাগে দেশে ফিরে পুনর্বাসনে ছিলেন বিসিবির তত্ত্বাবধানে।  ভারত সফরের আগে ফিট হয়ে  দলের নেতৃত্বেও পাশাপাশি দলের উইকেটরক্ষক হিসেবেও  মাঠে নেমেছেন হায়দ্রাবাদে। ম্যাচের প্রথম দিনে ভারতের ইনিংসে বেশ কটি ক্যাচের পাশাপাশি রান আউট মিস করার তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে? আসলেই কি তিনি ফিট না হয়েই দলে  ফিরছেন।  হয়ত অধিনায়কতের দায়িত্বেও চাপে  কিপিং  ও বাটিং ঠিকমত হচ্ছে না ? তার এবার অধিনায়কত্ব ছেড়ে কিপিং ও ব্যাটিংয়ে মনোনিবেশ করা উচিত। এমনকি বিসিবি সভাপতি ম্যাচের তৃতীয় দিনে সাংবাদিকদেও সঙ্গে আলাপকালে ইংগিত দিয়েছিলেন অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক মুশফিককে বাদ দিয়ে তিনি শুধুমাত্র ব্যাটসম্যান মুশফিককে চায়। বিসিবি, নির্বাচক ও সমর্থকদের এসব প্রশ্নের জবাব ব্যাটেই দেয়ার অেেপক্ষায় ছিলেন মুশফিক। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের ইনিংসের ১০৯ রানে রিয়াদের বিদায়ের পর মাঠে আসেন মুশফিক। সাকিবকে নিয়ে গড়েন ১০৭ রানের জুটি, সাব্বিরের অবিচেক শটে তাদের জুটি শেষ হয় মাত্র ৩৩ রানে। এরপর  মিরাজের সঙ্গে ৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ১৩৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা মুশফিক টানা ৬৫ বল ছিলেন বাউন্ডারী বিহীন। ভারতীয় পেসারদের গতি ও সুইংয়ের  পাশাপাশি রবিচন্দ্র আশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার ঘূর্ণিবলও মোকাবেলা করেছেন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। আজ চতুর্থ দিনে প্রায় মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাট করায় ফলোঅন না করিয়ে ভারত দ্বিতীয় দফায় ব্যাট করে। ফলে নিশ্চিত হয়ে যায় ম্যাচ পঞ্চম দিনে গড়াচ্ছে। বলা যায় মুশফিকের ব্যাটিংয়ের ফলে ম্যাচে পরিধি পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ