সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ট্রাম্প আমলে উত্তর কোরিয়ার প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি, বিবিসি/রয়টার্স : জাপান সাগরে নতুন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
গতকাল রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে জাপান সাগরের পূর্ব অংশে উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি ৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে বলে তথ্য পেয়েছে দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শুরুর পর এটিই উত্তর কোরিয়ার প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক বোমা এবং ব্যালিস্টিক ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের বেশ কয়েকটি পরীক্ষা চালিয়েছে, যা নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। রোববারের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয় কোরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম পাশের উত্তর পিয়ঙ্গান প্রদেশের বাঙ্গিয়ুন বিমানঘাঁটি থেকে।
হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছে। দেশটির জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের অফিস থেকে উত্তরের এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘শক্তির প্রদর্শনী’ অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বছরের শুরুতে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন বলেছিলেন, তার দেশ শিগগিরই নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহনে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস সতর্ক করে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া তেমন কিছু ঘটালে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করবে না।
উত্তরের হুমকি মোকাবেলায় এ বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম বসানোরও ঘোষণা দেন তিনি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তর কোরিয়া নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর আভাস দিয়ে বলেছিল, তাদের এ ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় আঘাত হানতে সক্ষম।
নতুন করে চালানো উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে কোরিয়া উপদ্বীপের পশ্চিমে উত্তর পিয়ঙ্গান প্রদেশের বাঙ্গিয়ন বিমান ঘাঁটি থেকে এ পরীক্ষা চালানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপান সাগরের পূর্বে ৫০০ কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়।
ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্র সফররত জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানান। তারা এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প জাপানের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সকলের অবগতির জন্য বলছি, শতভাগ নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপানের পাশে থাকবে।’ জাপানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।
তবে নির্বাচনি প্রচারণাকালে ট্রাম্প জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান ও তার খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি মার্কিন সেনাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। গত বছর পার্শ্ববর্তী দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমাগত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় পিয়ং ইয়ং।
এবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে তারা শনাক্ত করতে পেরেছে।
এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
২০১৬ এর সেপ্টেম্বরে দেশটি পঞ্চমবারের মতো পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর কথা জানায়। বিশেষজ্ঞরা সে সময় বলেছিল, উত্তর কোরিয়া দাবি করলেও তাদের প্রযুক্তি এখনও যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর মত সক্ষমতা অর্জন করেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ