বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সরকারের শরিক দলের তালিকা থেকেই নির্বাচন কমিশন গঠন

আল আমিন : নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকারি দল পরিকল্পিতভাবে তার মিত্রদের কাজে লাগিয়েছে নাকি এটা কাকতালীয় ঘটনা? আওয়ামী লীগ কি শরিকদের দিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে? নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পর এ প্রশ্নটিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন রাজনৈতিক মহলে। কারণ ৫ সদস্যের ইসিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) চারজনই মনোনীত হয়েছেন সার্চ কমিটির কাছে জমা দেয়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের তালিকা থেকে। এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট দলগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা। তারা বলছেন, এটা তাদের সুচিন্তিত কর্মকৌশলের অংশ।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরামর্শেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনারদের জন্য নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছিল ১৪ দলের শরিকরা। আর এ তালিকাই সার্চ কমিটির কাছে জমা দিয়েছিল তারা।
সরাসরি অথবা জোটের বিশ্বস্ত নেতাদের মাধ্যমে শাসক দলের পক্ষ থেকে শরিকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়। একটি ছাড়া ১৪ দলের শরিক অন্য সবগুলো রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকে সিইসি ও কমিশনার পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তবে এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ১৪ দলের শরিক দলগুলোর নেতাদের কারও সঙ্গে এ নিয়ে (সার্চ কমিটিতে জমা দেয়া নাম) তার কোনো আলোচনা হয়নি। আওয়ামী লীগের কারও সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানেন না। তবে শরিকরা একে অপরে এ নিয়ে আলোচনা করলেও করতে পারেন।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে বর্তমানে ১৩টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৯টি। এগুলো হল- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাসদ (ইনু), ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), তরিকত ফেডারেশন ও জাসদ (আম্বিয়া)। এর মধ্যে একমাত্র জাসদের (আম্বিয়া) তালিকা থেকে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে কোনো ব্যক্তি মনোনীত হননি। অথচ ১৪ দলের বাকি ৮টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় সিইসিসহ অন্য তিন কমিশনারের নাম ছিল।
জানা গেছে, সার্চ কমিটিতে নাম জমা দেয়ার বিষয় নিয়ে গণতন্ত্রী পার্টির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২৯ জানুয়ারি। ওইদিন বৈঠক চলার সময় ১৪ দলীয় জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফলে নাম চূড়ান্ত না করে ওই বৈঠক মুলতবি করা হয়। পরের দিন অনুষ্ঠিত মুলতবি বৈঠকে নাম চূড়ান্ত করে পরের দিন ৩১ জানুয়ারি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন। তবে এ নিয়ে জোটের শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া এবং জাসদের (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তারের সঙ্গে তার আলোচনা হয় বলে জানান।
সার্চ কমিটির কাছে জমা দেয়ার জন্য ন্যাপও একই ধরনের ঘরোয়া বৈঠক করেন। সেখানে তারা দশটি নাম চূড়ান্ত করেন। এতে তারা আওয়ামী লীগের পরামর্শ গ্রহণ করেন। তবে শেষ মুহূর্তে ৫টি নাম জমা দেয়ার সময় নিজেদের নাম বাদ দেয়া হয়। এ নিয়ে বর্তমানে দলটির অভ্যন্তরে অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন।
১৪ দলের শরিকদের দেয়া তালিকা থেকে এসেছে সিইসিসহ চারজনের নাম, বিষয়টি পরিকল্পিত না কাকতালীয়? এমন প্রশ্নের উত্তরে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটা প্রশ্নের উদ্রেক করে। কারণ ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয় পায়।’
একই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, কয়েকজনের ব্যক্তিগত বিবেচনা ও পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে তাদের (প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার নির্বাচন কমিশনার) মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এতে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে।
তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী একটি দৈনিককে বলেন, কাকতালীয় হলে হতে পারে। তবে এ তালিকা তৈরির জন্য তারা অনেক কাজ করেন।
তিনি বলেন, তালিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সিইসি কেএম নুরুল হুদা ছাড়াও দুই কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও শাহাদৎ হোসেন চৌধুরীর নাম তাদের তালিকায় ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ