বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রয়োজন নির্বাচনকালীন ভালো সরকার

সাইফুল ইসলাম তানভীর : শেষ পর্যন্ত সেই “তাল গাছটাই” বহাল রইল। আমাদের যে আইন কানুন আছে তাতে সার্চ কমিটির প্রয়োজন ছিল না। এসব সার্চ কমিটি ছাড়াই রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারতেন। মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান একটা “সার্চ” কমিটির সংস্কৃতি চালু করেছিলেন,- সেই সার্চ কমিটির “জাদু” দেখালেন বর্তমান আ’লীগ সরকার। মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অনেকজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকেও ক্ষমা করে খালাস করেছিলেন।
যারা ছিলেন আদালত কর্তৃক প্রমানিত অপরাধী এবং আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। যাইহোক সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সার্চ কমিটির নাম দিয়ে যা উপস্থাপন করা হয়েছে তা এক ধরনের ছলনা। এই সার্চ কমিটিতে ক্ষমতাসীন আ’লীগ ঘরানার লোকজনই বেশি ছিলেন। অন্য দিকে সার্চ কমিটির ভালো সুপারিশগুলো আমলে নেয়া হয়নি। এখানে “আইওয়াশ” বলসে যেটা বুঝায় সেটাই করা হয়েছে। গত ০৯ ফেব্রুয়ারী The Daily Star এর প্রথম পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল (EC formation: Search panel to proposed enacting low) এই প্রতিবেদনের প্রথম কয়েকটি কথা এখানে তুলে ধরছি- (The six member search committee proposed among other things, enacting a law on formation of the election commission. The panel made the recommendation in its report to the president with a vision of what type of ec the people want to see in futurte. “We have recommended that the cabinet division, which provided us with secretaried assistance, publish the vision and recommendations so that people can know what the civil society members have recommended.’’ Prof. sayed manzoorul islam, a member of the panel, told the Daily Star yesterday.)
কেউ কেউ ভেবেছিলেন সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের মত ভদ্রলোকেরা যেহেতু সার্চ কমিটিতে রয়েছেন- সেহেতু ভালো কিছু একটা হতে পারে। সবশেষে দেখা গেলো মঞ্জুরুল ইসলামদের কথার কোন মূল্যই রইলো না। অবশ্যই একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এরকম ইসি গঠনে খুশি হয়েছেন। তার বাড়ী এবং সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিইসি’র বাড়ী একই জেলায়। তিনি গত ৮ ফেব্রুয়ারী রাতে তিনি যে কর্পোরেট গোষ্ঠীর প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক সেই কর্পোরেট গোষ্ঠীর ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় টকশোতে বসে তার খুশির কথা প্রকাশও করেছেন। তিনি নাকি প্রস্তাব করেছিলেন যিনি সিইসি হবেন, তিনি যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার হন। আর বর্তমান নিয়োগপ্রাপ্ত সিইসি নাকি সত্যিই একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিইসি ছিলেন তরিকত ফেডারেশনের মতো একটি সংগঠনের প্রস্তাবিত। অথচ রাষ্ট্রপতির কাছে অনেক বড় বড় রাজনৈতিক দল বিভিন্ন নামের সুপারিশ নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তো জামায়াত যায় নি যে “যুদ্ধাপরাধীর” তকমা আসবে। তাহলে কেন এত বড় বড় দলসমূহের সুপারিশ অবজ্ঞা করা হলো? সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিইসি’র বিরুদ্ধে বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির অভিযোগ তিনি নাকি “জনতার মঞ্চের” সদস্য ছিলেন। যদি সেটা সত্যিই হয়ে থাকে তাহলে ঘটনাটি কত বড় ভয়াবহ হতে পারে তা একজন সাধারণ নাগরিকও বুঝতে সক্ষম হবেন। কারন সরকারী কর্মচারী হয়ে তার দপ্তর ছেড়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যিনি নামতে পারেন তিনি আরও কত কিছুই না করতে পারেন। তিনি তৎকালীন বিএনপি সরকারের (১৯৯১-১৯৯৬) বিরুদ্ধে আন্দোলন নেমেছিলেন। তিনি ছিলেন আ’লীগের পক্ষের লোক। এখন সামনের নির্বাচনে যদি এই দুই দলই অংশগ্রহণ করে- তাহলে এই সিইসি’র ভূমিকা কি হবে? আরেকটি ব্যাপার হলো তিনি মাত্র যুগ্ম সচিব ছিলেন। এই পর্যায়ের কাউকে সিইসি বানানো কতটা মানানসই হয়েছে।
পূর্ন সচিব ছিলেন এ ধরনের যোগ্য অনেক ব্যক্তি এখনও জীবিত আছেন। আছেন সাবেক বিচারপতিগণ।
আরো আছেন আইন, বিচার বিভাগের সাবেক অনেক কর্মকর্তা- যাদের রয়েছে সমাজ রাষ্ট্রে অনেক গ্রহণ যোগ্যতা। এত কিছু উপেক্ষা করে একজন বিতর্কিত আ’লীগকে বানিয়ে দেয়া হলো সিইসি। কত বড় নাটকটাই না মঞ্চস্থ করা হলো। কি দরকার ছিল এই সব সার্চ কমিটির? এগুলো করে কি নিজেদেরকে (সরকার) উদার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে?
আরেকটি বিষয় হলো- নির্বাচন কমিশনে যত ভালো মানুষই বসানো হোক না কেন- নির্বাচনকালীন ভালো একটি সরকার না হলে বাংলাদেশের মতো দেশে সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে কাজী রকিবউদ্দিনের মতো এত বাজে কাণ্ড এর পূর্বে আর কোন সিইসি ঘটাননি। তিনি ইতিহাসে অবশ্যই একজন ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত পাবেন। গত ০৯ ফেব্রুয়ারী দৈনিক প্রথম আলোর ২ পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল- (পাঁচ বছরে সফল দাবি বিদায়ী সিইসির/নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘ধ্বংস’ করে রকিব কমিশনের বিদায়) এই প্রতিবেদন থেকে প্রথম কয়েকটি লাইন এখানে তুলে ধরছি- (দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করে গতকাল বুধবার বিদায় নিয়েছে রকিবউদ্দিন আহমেদের নেত্বতাধীন নির্বাচন কমিশন।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, এই কমিশন তার পাঁচ বছরের মেয়াদে তা ধ্বংস করে দিয়েছে) আমরা নির্বাচন কমিশন নিয়ে যত কথাই বলি না কেন- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচনকালীন একটি ভালো সরকার। এটা এখন সময়ের দাবী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ