বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

উখিয়ার পাগলির বিলে তামাক চাষ

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা: বর্তমান সরকার খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় রবি শস্য উন্নয়নে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে কৃষি খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিচ্ছে। অনাবাদি জমিজমা চাষাবাদের আওতায় এনে হতদরিদ্র কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এলাকায় স্লুইস গেইট ও বিপুল বরাদ্দে রাবার ড্যাম স্থাপন করেছে। কিন্তু উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলির বিল সিকদার পাড়া খালের উপর বাস্তবায়িত রাবার ড্যামে বিপুল পরিমাণ তামাক চাষে পানি সরবরাহ করতে গিয়ে বোরো চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এনিয়ে এলাকায় কৃষকদের মাঝে  দেখা দিয়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। এ ব্যাপারে ২নং স্কীম ম্যানেজার বাদী হয়ে গতকাল রোববার সিকদার পাড়া পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি অভিযোগ করেছে।
সরেজমিন, পাগলির বিল সিকদার পাড়া রাবার ড্যাম এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানতে চাওয়া হলে তারা রাবার ড্যাম স্কীমের আওতায় তামাক চাষ করার কথা স্বীকার করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, তামাক চাষের কারণে বোরো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। যারা অবৈধ ভাবে তামাক চাষ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হউক। এ সময় তামাক চাষের ছবি ধারণ করতে গেলে বেশ কয়েকজন কৃষক মারমুখি আচরণ করে বাধা প্রদান করার চেষ্টা করে। 
পাগলির বিল সিকদার পাড়া রাবার ড্যামের আওতায়ধীন ২নং স্কীম ম্যানেজার মৃত পেঠান আলীর ছেলে আবুুল কালাম অভিযোগ করে জানান, সে যুগ যুগ ধরে উক্ত স্কীম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে সুষ্ঠু পানি বণ্টনের মাধ্যমে শত শত একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করে আসছিল। উক্ত রাবার ড্যামের আওতায় ৮টি স্কীমের প্রায় ৪শ’ একর জমি চাষাবাদ করার নিয়ম থাকলেও অতিরিক্ত স্কীম বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তামাক চাষ করার সুবাদে চলতি মৌসুমে রবি শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশংকা দেখা দিয়েছে। রাবার ড্যামের পানি ব্যবহার করে তামাক চাষ করার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ হোসেন জানান, ইতিপূর্বে থেকে স্থানীয় কৃষকেরা জমিতে তামাক চাষ করে আসছিল। সে জন্য কাউকে তামাক চাষে বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। রাবার ড্যামের উপরিভাগে অপরিকল্পিত মাটির বাধ দিয়ে রাবার ড্যামের ক্ষতিসাধন করার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে, সমিতির ওই সেক্রেটারী কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।
হলদিয়াপালং ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ শাহজাহানের নিকট তামাক চাষের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন। উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কৃষকদের দাবী অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে গড়ে  তোলা তামাক চাষাবাদ উচ্ছেদ করে ওই জমিগুলোতে বোরো উৎপাদনের পদক্ষেপ নেয়া হলে এলাকার হতদরিদ্র কৃষকেরা বোরো চাষাবাদের সুযোগ নিয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবন-যাপনে সচ্ছলতা ও খাদ্য উৎপাদনে সহায়ক হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা ছিল বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ