বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাঘাটায় ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

গাইবান্ধা: সাঘাটা উপজেলার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় এভাবে স্তূপ করে রাখা হয়েছে

গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী: সাঘাটা উপজেলার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে ফসলি জমি হ্রাস পাচ্ছে। এদিকে কৃষকরাও তাদের ফসলি জমিতে ধান চাষ না করে পুকুর খনন করে মাছ চাষে অধিক উৎসাহিত হয়ে পড়েছে। আশংকাজনক ভাবে কমে যাচ্ছে খাদ্য উৎপাদন। এতে ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
 সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগ এ ব্যাপারে কোন তদারকি কিংবা দায়িত্ব পালন না করে একদম নিরব ভূমিকা পালন করছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তায় সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় ফসলি জমি রক্ষায় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। ব্রিটিশ সরকার প্রণীত ল্যান্ড রেগুলেটরিং এ্যাক্ট অনুযায়ী কৃষক ইচ্ছা মাফিক কোন জমির পরিবর্তন করতে পারবে না।
 যেকোন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভূমি প্রশাসন কিংবা ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ক্রমে তা পরিবর্তন করা যাবে। বর্তমানেও দেশে এ নিয়ম নীতি বলবৎ থাকায় এর আওতায় ভূমি প্রশাসন আবাদি জমি রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন  করার ক্ষমতা রাখে। শুধুমাত্র দায়িত্ব এড়িয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নানা ধরনের অজুহাত খুঁজে বেড়ান।
সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জানাযায়, ইরি, বোরো ধান চাষের পরিবর্তে কৃষকরা এখন ফসলি জমিতে অধিকহারে পুকুর খনন করে মাছ চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষক জানান, ধান চাষ করে বছরের পর বছর লোকসান গুণে গুণে অনেক কৃষক নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছেন। এদিকে কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় গণহারে মাছ চাষে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা।
ফলে কমে যাচ্ছে ফসলি জমি। এদিকে, উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের আমদিরপাড়া প্রামের বেনজির আহম্মেদ নামে একজন ব্যবসায়ী আমদিরপাড়া মৌজায় ৫-৬ বিঘা ফসলি জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে পুকুর খনন করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন না নিয়েই। এতে করে পার্শ্ববর্তী ফসলি জমিগুলোর পাড় ধসে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভ্যাকুয়াম মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মুবিনুজ্জামান চৌধুরী জানান, ইট ভাটার কারণে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ