বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গলফে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

মাহাথির মোহাম্মদ কৌশিক : অপরিচিত ও ধনীদের খেলা হিসেবে গলফের কদর রয়েছে। তবে এই খেলাটিই এখন সাধারণের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। গলফে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। খেলাধুলার কোন আসরে চ্যাম্পিয়ন না হলে আসলে কাউকেই মনে রাখা হয়না। রেকর্ড বইয়ে রানার্সআপ দলের নাম সেভাবে লেখাও হয়না। কিন্তু সেদিক থেকে ব্যতিক্রম বলা যেতে পারে বাংলাদেশ ওপেন গলফকে। শিরোপা জয়ের মিশনে নেমে শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দেশের প্রথম পেশাদার গলফার সিদ্দিকুর রহমানকে। দেশের গলফ আইকন হিসেবে এমনিতে প্রত্যাশা বেশি থাকে তাকে নিয়ে। এবারো সেরকমই ছিল। তবে পাশে থাকা দুলাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেনরা আলো ছড়াবেন বলে প্রত্যাশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সাফল্যের জিয়নকাঠি হাতে ঠিকই আগমন করলেন সিদ্দিকুর। শুরুতে খারাপ করলেও পরে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে এসে দ্বিতীয় হওয়াটা বড় বেশি কৃতিত্বের দাবী রাখে। শুরু আর শেষটাতে সে কারণেই মেলাতে চাইবেন না কেহই। শেষ রাউন্ডটা দুর্দান্ত করেন সিদ্দিকুর। ১ নম্বর হোল থেকে রাউন্ডের শুরু করেন এই দেশসেরা গলফার। পরের হোলেই দেখা পান কাক্সিক্ষত বার্ডির। চার পারের এই হোলটি বেশ ফুরফুরে মেজাজে শেষ করেন তিন পারে। এরপর তিন নাম্বার হোলটি পারের সমান খেলে পরেরটিতেই তুলে নেন বার্ডি। ৫ ও ৬ নম্বর হোল সতর্কতার সাথে পারের সমান খেলার পরে ৭ নম্বর হোলে এসে দেখা পান দিনের তৃতীয় বার্ডির। এরপর টানা ৫টি হোল পারের সমান খেলে ১৩ নম্বর হোলে এসে দিনের প্রথম বগির দেখা পান। তবে ১৪ ও ১৫ নম্বর হোলে টানা বার্ডি নিয়ে খেলায় ফেরেন সিদ্দিকুর। ১৬, ১৭ নম্বর হোল পারের সমান খেলে ১৮ নম্বর হোলে বার্ডি করে নিশ্চিত করেন বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেন এর প্রথম রানারআপের গৌরব। এদিকে পারের চেয়ে ১৭ শট কম খেলে প্রথমবারের মতো এশিয়ান ট্যুর শিরোপা জিতেছেন থাইল্যান্ডের জ্যাজ জেন ওয়াটানান্দ। রানার্সআপ হওয়ার পর তাই প্রথম দিনটার কথা একটু বেশিই মনে পড়ছে সিদ্দিকুরের। ২৯তম স্থানে থেকে প্রথমদিন শেষ করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দিন থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জয়ের আশাও জাগান তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে চার শটের ব্যবধানে থেকে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সিদ্দিকুরকে। পারের চেয়ে ১৩ শট কম খেলেন তিনি। শেষ দিনটা তৃতীয় স্থানে থেকে শুরু করেন সিদ্দিকুর। আশা ছিল চমক দেখানোর, সেটা করতেও পেরেছিলেন কিন্তু প্রথম স্থানে থাকা গলফার কোন ভুল করেননি বলেই সিদ্দিকুরকে হতাশ হতে হয়েছে। শেষদিন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সম্ভাবনাও জাগান। কিন্তু শিরোপা জেতার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি। তবুও হতাশ নন সিদ্দিকুর রহমান, ‘শেষদিন মনে হয়েছিল শিরোপা জিততে যাচ্ছি আমি। শুরুর প্রথম ৯ হোল পর্যন্ত মনে হচ্ছিল আমি জিতব। ১০-১১ হোল পর্যন্তও আশা ছিল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমার সুযোগ ছিল।’ তবে ২৯তম স্থানে থেকে শিরোপা জয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, এটাকেই বড় করে দেখছেন সিদ্দিকুর, ‘প্রথম দিনটা আমি কেমন করেছি সেটাতো আপনারা ভালই জানেন। এরপর খুব ভালোভাবে ফিরে এসেছি। ঘরের কোর্সে দ্বিতীয় হতে পেরে আমি খুশি। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হতে পারাটা অনেক বড় অর্জন। এটা বছরের বাকি আসরগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। অন্ততঃপক্ষে শুরুটা খারাপ করার পর কিভাবে ঘুড়ে দাড়াতে হয় সেটি আমি খিলেছি।’
বাংলাদেশ ওপেনে এটাই সিদ্দিকুরের সেরা সাফল্য। গত আসরে ছিলেন যৌথভাবে ৩৫তম স্থানে। বাংলাদেশ ওপেনের অভিষেক আয়োজনে সিদ্দিকুরের অবস্থান ছিল ৩১তম। প্রথম দিনে জানে ওয়াত্তানন্দের চেয়ে ৭ শটে পিছিয়ে ছিলেন সিদ্দিকুর। প্রথম দিনের ব্যবধান অনেকটা কমাতে পারলেও শিরোপা জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। সিদ্দিকুর ছাড়া বাংলাদেশের গলফারদের মধ্যে মোটামুটি ভালো ফল করেছেন দুলাল হোসেন। পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলে যৌথভাবে আছেন ১৫তম স্থানে। জামাল হোসেন হয়েছেন ২৬তম। ৩ লাখ ডলার জিতেছেন জানেওয়াত্তানন্দ।  আর সিদ্দিকুর পেয়েছেন ৩৩ হাজার মার্কিন ডলার। প্রথম দিনটা সিদ্দিকুরের মতো বাকি গলফারদেরও ভাল কাটেনি। ২৯ নম্বর থেকে প্রথম দিন শেষ করেন দু’-দু’বার এশিয়ান ট্যুরজয়ী এ গলফার। দ্বিতীয় দিন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে যুগ্মভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছিলেন সিদ্দিকুর। পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলে তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে গিয়েছিলেন এ গলফার। সিদ্দিকুরের সঙ্গীরাও যথেষ্টই আলো ছড়িয়েছেন। বাংলাদেশ ওপেনে প্রথমবারের মতো কাট পেরিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন স্বাগতিক ১০ গলফার। এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছেন ১৩০ জন। এদের মধ্যে পারের চেয়ে সর্বনিম্ন ৩ শট বেশি খেলা ৭৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছিলেন তৃতীয় রাউন্ডের। বাংলাদেশ ওপেন গলফে এর আগের আসরে তৃতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন মোটে পাঁচজন। ২০১৫ সালে প্রথম আসরে কাট পেরিয়ে তৃতীয় রাউন্ডের নাগাল পান সাতজন। দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা পেরোনো বাকিরা হলেন দুলাল হোসেন, সজীব আলী, জামাল হোসেন, মোহাম্মদ জিয়া, বাদল হোসেন, মোহাম্মদ নাজিম, সম্রাট শিকদার, আকবর হোসেন ও রবিন মিয়া। তবে এক সময়কার ধনীদের খেলা হিসেবে পরিচিত গলফে আশার আলো হয়ে ফোটা সিদ্দিকুর রহমান যে ফর্মে ফিরেছেন এটাই সবচেয়ে বড় তৃপ্তিদায়ক বিষয়। এছাড়া তৃতীয় আসরে এসে একজন দেশী গলফার সেরা তিনে স্থান করে নেয়াটাও গৌরবের বিষয়। এই আসরে সাফল্য দিয়ে বছরের বাকি টুর্নামেন্টগুলোতে ভাল করবেন সিদ্দিকুর এমনটাই প্রত্যাশা। ’ধনীদের খেলা’ হিসেবে পরিচিত গলফে বাংলাদেশের অবস্থান যতটুকু তার সিংহভাগই সিদ্দিকুর রহমানের হাত ধরে এসেছে। এলিট শ্রেণীর খেলা থেকে এই খেলাটিকে সাধারণের মাঝে নিয়ে আসতেও তার ভূমিকা অসামান্য। দেশের গলফের উন্নতি দেখেই এখন বেড়েছে ঘড়োয়া টুর্নামেন্টের সংখ্যা। পাশাপাশি আয়োজন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও। বাংলাদেশ ওপেন সেরকমই একটি টুর্নামেন্ট। সদ্যই শেষ হয়েছে তৃতীয় আয়োজন। সেখানে আলো ছড়িয়ে রানার্সআপ হয়েছেন বাংলাদেশী গলফার সিদ্দিকুর রহমান। শিরোপা জয়ের খুব কাছে চলে এলেও ভাগ্যে শিকে ছেড়েনি। চ্যাম্পিয়নশিপের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও পারেননি থাইল্যান্ডের জ্যাজ জানেওয়াতানন্দে কারণে। এই গলফার দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিদ্দিকুরকে কোন প্রকার সুযোগই দেননি। প্রথম দিনে পিছিয়ে থাকাটাই কাল হলো আইকন গলফার সিদ্দিকুর রহমানের। বাংলাদেশ ওপেন গলফে ২৯তম স্থানে থেকে প্রথম দিন শেষ করেন তিনি। দ্বিতীয় দিন থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জয়ের আশাও জাগান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে চার শটের ব্যবধানে থেকে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সিদ্দিকুরকে। পারের চেয়ে ১৩ শট কম খেলেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন থাইল্যান্ডের জ্যাজ জানেওয়াত্তানন্দ পারের চেয়ে ১৭ শট কম খেলেন। কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে তৃতীয় স্থানে থেকে শেষদিনের খেলা শুরু করেন সিদ্দিকুর। এদিন অনেককিছুই হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। চমক দেখানোর মাধ্যমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সম্ভাবনাও জাগান। পরাজয়ে হতাশ না হয়ে তার মূল্যায়ন ছিল এরকম, ‘শেষদিন যে কোন কিছুই ঘটতে পারত। আমিও চ্যাম্পিয়ন হতে পারতাম। শুরুর প্রথম ৯ হোল পর্যন্ত মনে হচ্ছিল আমি জিতব। ১০-১১ হোল পর্যন্তও আশা ছাড়িনি। কিন্তু শেষে আর সে সুযোগ পাইনি’।
প্রথমদিন ২৯তম স্থানে থেকে শিরোপা জয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, এটাকেই বড় করে দেখছেন সিদ্দিকুর। বাংলাদেশ ওপেনে এটাই সিদ্দিকুরের সেরা সাফল্য। গত আসরে যৌথভাবে ৩৫তম স্থানে ছিলেন। বাংলাদেশ ওপেনের অভিষেক আসরে তার অবস্থান ছিল ৩১তম। প্রথম দিনে জানেওয়াত্তানন্দের চেয়ে ৭ শটে পিছিয়ে ছিলেন সিদ্দিকুর। প্রথম দিনের ব্যবধান অনেকটা কমাতে পারলেও শিরোপা জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।  সিদ্দিকুর ছাড়া বাংলাদেশের গলফারদের মধ্যে ভালো করেছেন দুলাল হোসেন। পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলে যৌথভাবে আছেন ১৫তম স্থানে। জামাল হোসেন হয়েছেন ২৬তম। চ্যাম্পিয়ন হয়ে ৩ লাখ ডলার জিতেছেন জানেওয়াত্তানন্দ। আর দ্বিতীয় স্থানে থেকে সিদ্দিকুর পেয়েছেন ৩৩ হাজার মার্কিন ডলার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ