বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বোনারপাড়া-দিনাজপুর রেলরুটে ৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ট্রেন

গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী : সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া জংশন স্টেশন থেকে দিনাজপুর গামী রামসাগর ট্রেনটি পুনরায় চালুর দাবি দিন দিন জোরালো হলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। উত্তরাঞ্চলের জেলার মানুষের স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে এবং নিরাপদে বোনারপাড়াসহ আশেপাশের এলাকা  থেকে দিনাজপুরগামী ট্রেনটি ২০১০ সালে চালু করে রেল কর্তৃপক্ষ। এতে গাইবান্ধা জেলার ৭টি উপজেলা- এমন কি জামালপুর জেলার কয়েকটি উপজেলার মানুষও বোনারপাড়া রেলস্টেশন ও গাইবান্ধা ষ্টেশনে এসে ট্রেনটিতে যাতায়াত করে। দিনাজপুর ও রংপুর বিভাগীয় শহরে যাওয়া আসার জন্য এ ট্রেনটি খুবই জরুরি। ট্রেনটি চালুর পর যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তিও এসেছিল। বোনারপাড়া রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টায় ট্রেনটি দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করত।
গাইবান্ধা, কামারপাড়া, নলডাঙ্গা, বামনডাঙ্গা, চৌধুরানী, পীরগাছা, কাউনিয়া রেল স্টেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ ছাড়াও লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলার মানুষও এ ট্রেন যোগে রংপুর বিভাগীয় শহরে নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারত। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের দাপ্তরিক কাজে দিনাজপুর গিয়ে কাজ সেড়ে আবার বাড়ি ফিরে আসার সুযোগ পেত। এতে আর্থিক ব্যয় কম হত।   রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নিয়ে স্বাচ্ছন্দে যাতায়ত করত এসব জেলার মানুষরা। কিন্তু ২০১১ইং সালে রহস্যজনক ভাবে রেলকর্তৃপক্ষ  ট্রেনটি বন্ধ করে দেয়। এতে  যাত্রীদের দূর্ভোগ বেড়ে যায়। বোনারপাড়ার ট্রেনযাত্রী আছলাম জানান, বাস যোগাযোগ সহজলভ্য না হওয়ায় সাঘাটা, ফুলছড়ি উপজেলা ও গাইবান্ধা জেলার মানুষ দিনাজপুর যেতে হলে গোবিন্দগঞ্জ গিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের  অবর্নণীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে কথা হলে বোনারপাড়া রেল ষ্টেশন মাষ্টার হুমায়ুন কবির বলেন, আসলে ট্রেনটি বন্ধের বিষয়টি পুরোপুরি রেলকর্তৃপক্ষের। স্থানীয় ভাবে এর সমাধান সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় রেলশ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার আলী জানান, বোনারপাড়া-ভরতখালী স্যাটল ট্রেন ও রামসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করে চলছি। সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু জানান, রামসাগর ট্রেনটি চালুর ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনেকবার কথা বলেছি কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। লালমনিরহাট পশ্চিমাঞ্চল রেলকর্তৃপক্ষের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ