মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জামিন নিলেন মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

চট্টগ্রাম অফিস : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি দুর্নীতি মামলায় চট্টগ্রামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. শাহে নূরের আদালত তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
জানা গেছে, এই মামলা থেকে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় গত বছর বাতিল করে নিম্ন আদালতে বিচারের নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।
সূত্র জানায়, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী থাকার সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় একটি জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ এনে ২০০৭ সালের ২২ নভেম্বর নগরীর ডবলমুরিং থানায় মামলাটি করেন দুদকের তৎকালীন উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। মামলার এজাহারে বলা হয়, এক দশমিক ৪৪ বিঘা আয়তনের জমিটি জনগণের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ছিল।ওই জমিটি গোল্ডেন ইন হোটেলের নামে সাংসদ রফিকুল আনোয়ার ও তার ভাই ফখরুল আনোয়ারকে ইজারা দেওয়ার সুপারিশ করেন মন্ত্রী।ওই জমির মূল্য ধরা হয়েছিল এক কোটি ৬৯ লাখ ২০৭ টাকা। পরে ‘লিজের শর্ত ভেঙে’ মেসার্স সানমার হোটেল লিমিটেডের নামে ওই জমির ইজারা নিবন্ধন করা হয়।এক্ষেত্রে দলিলে উল্লেখ করা দরের চেয়ে সানমার হোটেলের কাছ থেকে ২ কোটি ৯২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৮ টাকা বেশি আদায় করা হয় বলে দুদকের এজাহারে বলা হয়। মামলায় বলা হয়, এর বিনিময়ে মন্ত্রীর নির্দেশে তার স্ত্রীর একটি ব্যাংক হিসেবে ৫৫ লাখ টাকা জমা করা হয়।এভাবে একজনের নামে বরাদ্দ জমি অন্য জনের নামে ইজারা নিবন্ধনের মাধ্যমে সরকারের চার কোটি ৬১ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।এ মামলায় ২০০৮ সালে তিন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ মামলাটি বাতিলের আবেদন করলে ২০০৮ সালে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করে।ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে ২০১২ সালের ২০ নবেম্বর বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের বেঞ্চ মামলাটি বাতিল করে দেয়।পরে এর বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করে দুদক। সেই লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ রোববার হাই কোর্টের রায় বাতিল করে দেয় গত বছরের ৮ মে।
দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু  বলেন, সেই আদেশ অনুসরণ করেই মংগলবার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মামলার দুই আসামী গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং হোটেল গোল্ডেন ইন লিমিটেডের পরিচালক ফখরুল আনোয়ার। আদালত তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে ১২ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন ।পাশাপাশি মামলার শুনানির দিনে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা মন্ত্রীর আবেদনও মঞ্জুর করেছেন আদালত।এ মামলার তিন আসামীর মধ্যে অন্যজন ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ রফিকুল আনোয়ার মারা গেছেন।বিষয়টি শুনানিতে উল্লেখ করলে আদালত এ বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী সানোয়ার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ