মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গ্রাহক হয়রানির শীর্ষে সোনালী ব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমেই ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫৬৩ গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হয়েছে। এই ব্যাংকের বিরুদ্ধে আলোচ্য সময়ে সব চেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে। গতকাল এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্বনর ফজলে কবির জানিয়েছেন, সব তফসিলি ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকবান্ধব আচরণ করা উচিত।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের ২০১৫-১৬ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সোনালী ব্যাংকের সেবা নিয়ে গ্রাহকরা আলোচ্য সময়ে ৫৬৩টি অভিযোগ করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। এই ব্যাংকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ৩৭৩টি। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। এই ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল ২৯১টি।
এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২৬৮টি, জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২৩১টি, ডাচ বাংলা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২০৪টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ১৮৪টি, পূবালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ১৩২টি, রূপালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ১৩১টি এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ১২৬টি।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ওই বিভাগটির কাছে ৪ হাজার ৫৩০টি অভিযোগ আসে। এর মধ্যে টেলিফোনে ২ হাজার ৩৮৪টি, লিখিতভাবে ২ হাজার ১৪৬টি অভিযোগ আসে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বেসরকারি তফসিলি ব্যাংকগুলোতে অভিযোগের হার ছিল বেশি। যার পরিমাণ ছিল মোট অেিভাগের ৫৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ছিল ২৮ দশমিক ২৮ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ছিল ৪ দশমিক ০৬ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ছিল ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তফসিলি ব্যাংক বাদে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের ২০১৫-১৬ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে গর্বনর বলেন, সব তফসিলি ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকবান্ধব আচরণ করা উচিত।
গর্বনর বলেন, দেশের জনগণ আমাদের বিশ্বাস করে ব্যাংকে টাকা রাখেন। বিশ্বস্ততার সঙ্গে তাদের সেবা দিতে হবে। এই সেবা দিতে গিয়ে যে অভিযোগ ও অসন্তুষ্টি থাকে তা অনাকাঙ্খিত।
তিনি বলেন, আমাদের গ্রাহকভিত্তিক সেবা থাকতে হবে, প্রশিক্ষণমূলক প্রোগাম বেশি থাকতে হবে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, ফ্রন্ট ডেক্সকে প্রাধান্য দিতে হবে। গ্রাহকদের সব ধরণের অভিযোগ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তরিকতার সাথে সেই অভিযোগ সমাধান করতে হবে।
এসময় ডেপুটি গর্বনর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান বলেন, ব্যাংক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এই সেবার প্রসার দিন দিন বাড়ছে। তবে কোনো ব্যাংকের ওপর যদি জনগণের আস্থা কমে যায়। সেই ব্যাংকের টিকে থাকা দুরহ হয়ে পড়ে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ