বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দুর্নীতি পাগলা ঘোড়া এর লাগাম টেনে ধরা খুব কঠিন -দুদক চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযানের ফলে ‘ঘুষের রেইট’ বেড়ে গেছে বলে নানাজনের কাছে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত না হলেও বিষয়টি উদ্বেগের বলে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় তিনি দেশের সামগ্রিক দুর্নীতির চিত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়েই মন্তব্য করে বলেন, দুর্নীতি একটি পাগলা ঘোড়ার মত। এই পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরা খুব কঠিন।
দুর্নীতি ঠেকাতে বিভিন্ন দফতরে সম্প্রতি অভিযান শুরু করেছে দুদক; গতকাল মঙ্গলবারও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা ঘুষের অর্থসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, “গত এক বছরে কমিশনের অভিযানে চার থেকে পাঁচশ লোক ধরা হয়েছে। তাদেরকে কোর্টে প্রেরণ করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। “কিন্তু এই অভিযানের ফলে দেখা গেল, আমাকে অনেকেই বলেছে যে, আপনি ড্রাইভ দিচ্ছেন ভালো, কিন্তু এতে রেইট বেড়ে গেছে। যারা দুর্নীতি করছে, তাদের এখন বক্তব্য হচ্ছে, ভাই এখন চারদিকে দুদক, ঝামেলা, ১০ টাকার জায়গায় আপনি এক হাজার টাকা দিবেন। এটা আমার কানে এসেছে।”“এটা সত্য না মিথ্যা তা যাচাই করার দায়িত্ব আমার না, তবে কানে যেহেতু এসেছে তা উদ্বেগের বিষয়,” বলেন দুদক চেয়ারম্যান।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতোই দেখা গেছে। দুর্নীতি নিয়ে নানা সময়ে উদ্বেগ এসেছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকেও।
দুর্নীতি ঠেকাতে শুধু অভিযান নয়, সামাজিক আন্দোলনের উপর জোর দেন ইকবাল মাহমুদ।“মানুষ ধরলেই কি দুর্নীতি প্রতিরোধ হবে? তাহলে আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধ কীভাবে করব? আমি দেখছি, দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য সরকার, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্কুল-মাদ্রাসার উদ্যোগ কোনো কিছুই কাজে আসবে না, যদি না সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের দিকে না যাই।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে আবার নিজে দুর্নীতি করলে কোনো ফল আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে এনজিওদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভায় এনজিওকর্মীদের সক্রিয় হতে আহ্বান জানান ইকবাল মাহমুদ।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর আয়োজনে এই সভায় প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, “ব্যুরো মনে করে, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এনজিও স্টাফদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।”সরকারের বিভিন্ন দফতর ও অফিসে ই-ফাইলিংয়ের অংশ হিসেবে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সব কার্যক্রম অনলাইনে করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলেও মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশি কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানও বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ