মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

মুসলিম অধ্যুষিত সাত দেশের নাগরিকদের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক। সিয়াটল আদালতের এই স্থগিতাদেশ প্রথমবারের মত দেশজুড়ে কার্যকর হবে। গত শুক্রবার এই আদেশ দেয়া হয়। উল্লেখ্য যে, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশকে কোনো রাজ্যের বিচারক চ্যালেঞ্জ করতে পারেন না বলে সরকারি আইনজীবীর দাবিও নাকচ করে দেন সিয়াটল ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জেমস রবার্ট।
প্রেসিডেন্টের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক ও মুসলিমদের জন্য অযথা হয়রানির কারণ বলে উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়। আরো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলও ট্রাম্পের আদেশকে অসাংবিধানিক বলে বর্ণনা করেছেন।
একজন বিচারক যখন প্রেসিডেন্টের আদেশকে অসাংবিধানিক ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেন, তখন উপলব্ধি করা যায় যে, আদেশটি সুবিবেচনাপ্রসূত হয়নি। বিচারকের নির্দেশনার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছে মার্কিন সমাজও। ফলে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ওপর আদালত স্থগিতাদেশ জারি করার পর মার্কিন এয়ারলাইন্সগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভিসাপ্রাপ্ত মুসলিমদের বহন শুরু করেছে। আদালতের আদেশের পর পরই দেশটির কাস্টমার অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিপিবি) কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে মার্কিন এয়ারলাইন্সগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বৈধ ভিসাপ্রাপ্ত মুসলিমদের বহনের নির্দেশনা জারি করে। বিমান কোম্পানিগুলোকে নির্বাহী আদেশের আগে যেভাবে যাত্রী বহন করছিল, সেভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে দেয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আদালতের আদেশে সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে গেলেও তা উল্টে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি। আর ট্রাম্পের মত একজন দাম্ভিক মানুষের পক্ষে এমন হুংকার দেয়া তেমন অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের চাইতেও আদালতের বক্তব্য আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। আদালত একটি ধর্ম গোষ্ঠীর মানুষের বৈধ অধিকারের পক্ষে নির্দেশনা দিয়ে মার্কিন সংবিধানকে সমুন্নত রেখেছেন। মুসলমানদেরকে অযথা হয়রানির বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখে বৈষম্য ও বর্ণবাদকে রুখে দিয়েছেন। মার্কিন আদালতের এমন ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রকে তার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পথে বহমান রেখে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন বিষয়টি উপলব্ধি করে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ