সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

একসাথে ১০টি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল চীন

৩ ফেব্রুয়ারি, পিটিআই : একসাথে ১০টি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল চীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার সামরিক গতিবিধি বাড়তে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই চীনের এই পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপকে বেইজিংয়ের পরমাণু কর্মসূচিতে বড় ধরনের বদলের ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের এই ডিএফ-৫সি ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপন হয় গতমাসে। এই পরীক্ষার উপর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কড়া নজর ছিল বলেও জানা গেছে। পরীক্ষা চালানোর জন্য এই ডিএফ-৫সি ক্ষেপণাস্ত্রে ১০টি নকল পরমাণু অস্ত্র বোঝাই করা হয়েছিল। তারপর তা পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় শাংজি প্রদেশের তাউইউয়ান স্পেস লঞ্চ সেন্টার থেকে। উৎক্ষেপণের পর তা গিয়ে পড়ে পশ্চিম চীনের একটি মরুভূমিতে। এই ডিএফ-৫সি ক্ষেপণাস্ত্রটি ডিএফ-৫ এর নতুন রূপ। ডিএফ-৫ হল আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। আটের দশকের গোড়ার দিকে প্রথমবার এটি সামনে এনেছিল চীন।
বেইজিংয়ের এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র কমান্ডার গ্যারি রস। তিনি বলেন, চীনের সামরিক গতিবিধির ওপর প্রতিনিয়ত নজর রেখে চলে প্রতিরক্ষা দফতর। আমাদের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পরিকল্পনার জন্য চীনের সামরিক শক্তির হিসাব রেখে চলা হয়।
বহু দশক ধরেই আমেরিকার হিসাবে চীনের হাতে থাকা পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ২৫০টির মতো। কিন্তু বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক এই পরীক্ষার অর্থ চীনের হাতে আরো বেশি পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে বলে দাবি রিপোর্টে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে চীন তাদের পুরানো ডিএফ-৫ ক্ষেপণাস্ত্রে পরমাণু অস্ত্র বোঝাই করতে শুরু করেছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, চীন যেভাবে খুব দ্রুত দূর পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র গড়ে তুলছে, তাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে। তার উপর চীনের পরমাণু শক্তি ঠিক কতটা, তাও স্বচ্ছ নয়। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের সাথে চীনের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। কারণ ট্রাম্প ইতোমধ্যেই চীন সম্পর্কে তার কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন। চীনের সাথে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি থেকে শুরু করে দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সামরিক গতিবিধি, বিভিন্ন ইস্যুতে ইতোমধ্যেই সুর চড়িয়েছেন ট্রাম্প।
যদিও চীনের সেনাবাহিনীর এক অফিসার দাবি করেছেন, ট্রাম্পের নির্বাচনের সাথে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চীনের এই সামরিক কর্তা হংকংয়ের একটি দৈনিককে বলেছেন, পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে অনুমতি নিতে হয়। সেই অনুমোদন আসতে ও তারপর প্রস্তুতি নিতে অন্তত এক বছর সময় লাগে সেনাবাহিনীর। তাই ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছেন বলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা ঠিক নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ