সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের?

৩ ফেব্রুয়ারি, রয়টার্স : ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবে দেশটির ওপর নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণা গতকাল শুক্রবারেই আসার কথা। ইরানের দুই ডজনেরও বেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিবিশেষের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এর আগে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবে যেমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবারও মার্কিন প্রশাসন তেমন পদক্ষেপই নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে লেখা এক চিঠিতে সিনেটরদের একটি দল বলেছে, “সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে মদদ দেওয়া এবং ব্যলিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মত অস্থিতিশীল কার্যকলাপের জন্য ইরানের নেতাদেরকে যথেষ্ট চাপ অনুভব করতে হবে।”
“ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ প্রয়োগসহ তাদের ওপর বাড়তি আরও নিষেধাজ্ঞা চাপানো প্রয়োজন।” গত রোববার ইরান মাঝারি পাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়।
 বুধবার  তারা নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা নিশ্চিত করে। তবে এর মধ্য দিয়ে তারা পারমাণবিক চুক্তি ভঙ্গ করেনি এবং এ পরীক্ষা নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য চালানো হয়েছে বলেও দাবি করে। কিন্তু ইরানের এ পরীক্ষাকে ‘উসকানি’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা করেন ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। উসকানির অভিযোগে ইরানকে নজরদারিতে রাখারও ঘোষণা দিন তিনি। ইরানের প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ‘কম আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিন এখন শেষ’ বলে আরও আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দেন ফ্লিন।
ওদিকে, ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ না করে বলেন, সব বিকল্পই হাতে আছে। ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ মধ্য দিয়ে দেশটির প্রতি ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতিরই সূচনা ঘটবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেছে ইরান। গত বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।
গত সপ্তাহে মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান। একে গত বছরের জুলাই মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ প্রস্তাব লঙ্ঘন বলে বুধবার দাবি করেছেন হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লাইন। ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর চূড়ান্ত পরমাণু সমঝোতা বা জেসিপিওএ’কে অনুমোদন দিয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদের এ প্রস্তাব।
ফ্লাইন বলেছেন, ‘এখন থেকে ইরানের ওপর আনুষ্ঠানিক নজরদারি শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি ফ্লাইনের দাবিকে নাকচ করে দিয়ে একে ভিত্তিহীন, পুনরাবৃত্তি এবং উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের কোনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই পরমাণু বোমা বহন উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি। তিনি বলেন, ইরানের সন্ত্রাসবিরোধী অব্যাহত লড়াইয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে বরং ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এ ছাড়া, এমন সব অবিবেচক নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে তা কার্যত সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ