বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে গুলীবিদ্ধ সাংবাদিকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষে গুলীবিদ্ধ সাংবাদিক আব্দুল হালিম শিমুল মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা একটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এর প্রতিবাদে আজ শনিবার শাহজাদপুর আধাবেলা হরতাল ডাকা হয়েছে। নিহত আব্দুল হালিম শিমুল দৈনিক সমকাল পত্রিকার সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর প্রতিনিধি ছিলেন। তার ছোট ভাই মো. আজাদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুরের দিলরুবা বাস টার্মিনাল থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত রাস্তার কাজ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কালিবাড়ি এলাকায় শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরু’র ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিমের শ্যালক ছাত্রনেতা বিজয়কে বেধড়ক মারপিট করে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দলের কর্মী-সমর্থক ও তার মহল্লা কান্দাপাড়ার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে দিলরুবা বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এ অবস্থায় অবরোধকারীদের একটি অংশ ক্ষিপ্ত হয়ে মনিরামপুর এলাকায় অবস্থিত পৌর মেয়রের বাড়ি ঘিরে ফেলে ইট-পাটকেল মারতে থাকে। এসময় মেয়র তার নিজের শটগান দিয়ে গুলী করলে ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত স্থানীয় সাংবাদিক শিমুলের মাথায় ও মুখে গুলী লাগে। এতে গুরুতর আহত হন শিমুল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় শুধু মেয়রের শটগান থেকেই গুলী ছোঁড়া হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, ওই সময় মেয়রের শটগানের গুলীতে সাংবাদিক শিমুলসহ তিনজন গুলীবিদ্ধ হন। দুপক্ষে সংঘর্ষে আহত হন আরও ১০ জন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাংবাদিক শিমুলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বগুড়ায় অবস্থার অবনতি হলে আহত সাংবাদিক শিমুলকে গতকাল ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পরে বেলা একটার দিকে ঢাকায় নেয়ার সময় বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে তার মৃত্যু হয়।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. সুশান্ত কুমার জানান, গুলীবিদ্ধ সাংবাদিকের মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছিলো। অচেতন অবস্থায় আইসিইউতে রাখার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ নিউরো সাইন্স হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা চলছিলো। সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের ভাই মকবুল হোসেন বলেন, ‘ঢাকায় যাওয়ার পথে বেলা ১টার দিকে টাঙ্গাইলে তার (শিমুল) মৃত্যু হয়। লাশ শাহজাদপুর থানায় আছে। পুলিশ সেখান থেকে সিরাজগঞ্জ মর্গে পাঠাবে । মকবুল হোসেন আরও জানান, সংঘর্ষের সময় গুলীবর্ষণের ছবি তোলার কারণেই মেয়রের ভাই পিন্টু তার ভাই শিমুলের মাথায় গুলী করে। এ ব্যাপারে মামা আবদুল মজিদ মন্ডল শাজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন।

এদিকে সাংবাদিক শিমুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে শনিবার আধাবেলা হরতালের ডাক দেয়া হয়। শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব ওয়াহিদ কাজল হরতালের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গুলীতে সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় শাহজাদপুরে কর্মরত সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে শাহজাদপুরের সাংবাদিকরা বিক্ষোভ মিছিল করে নানা কর্মসূচী প্রদান করেছে। শাহজাদপুর শহরে অতিরক্তি পুলিশ মোতায়েন করেছে। আব্দুল হাকিম শিমুল শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের অন্যতম সদস্য। তার গ্রামের বাড়ী পোতাজিয়া ইউনিয়নের মাদলা গ্রামে। ব্যক্তি জীবনে বিবাহিত ও এক পুত্র ও এক কণ্যা সন্তানের পিতা। এঘটনায় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন ,উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আজাদ রহমান,উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক, শাহজাদপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এম,এ, জাফর লিটন তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছেন।

এদিকে আওয়ামীলীগের দু’ গ্রুপের হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা বিজয় ও নিহত শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহারের পক্ষ থেকে পৌর মেয়র ও তার ২ ভাইসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ পুলিশ মেয়রের ২ ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী পালন করেছে । মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীরা আজ শনিবার উপজেলাব্যাপী সকাল দুপুর অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে ছাত্রলীগ ও প্রেস ক্লাব। শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল হক জানান, শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারপিটের ঘটনায় তার চাচা এরশাদ আলী বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে থানায় মামলা করেছে। মামলায় শাহজাদপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরু, তার ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু ও মিন্টুসহ ১১ জনের নাম উল্ল্যেখ করে ৫/৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিকে আসামী করে মামলা করেছে। ইতোমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মেয়রের ছোট ভাই হাসিবুল ইসলাম পিন্টু ও মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মেয়রের ব্যবহৃত শর্টগান জব্দ করা হয়েছে। মারপিটের কারণে বিজয়ের ২ পা ও ডান হাত ভেঙে গেছে। তাকে ঢাকা পুঙ্গ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।

এ দিকে ছাত্রলীগ নেতা বিজয়কে মারপিট ও মেয়রের শর্টহানের গুলীতে সাংবাদিক নিহতের প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলা বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। এই ঘটনায় শাহজাদপুরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ