শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গত ১৭ বছরেও আত্মসমর্পণকৃত চরমপন্থীদের দেয়া আনসারের চাকরি স্থায়ী হয়নি

খুলনা অফিস : গত ১৭ বছরেও আত্মসমর্পণকৃত চরমপন্থীদের দেয়া আনসারের চাকরি স্থায়ী হয়নি। ১৯৯৯ সালে চরমপন্থীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ ও তাদের পুনর্বাসন করার ঘোষণা করা হয়। তখন সাড়ে চারশ’ চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করে। যারা বিশেষ আনসার হিসেবে চাকরি পায়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় লাল ফিতায় বন্দী চাকরি স্থায়ীকরণে সরকার প্রধানের দেয়া প্রতিশ্রুতি। ফলে বিশেষ আনসার সদস্যরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটাচ্ছেন অনিশ্চিত জীবন। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণ চান দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত বিশেষ আনসার সদস্যরা।
এমনি একজন খুলনার তেরখাদা উপজেলার কামরুল ইসলাম। তিনিসহ সাড়ে চারশ’ চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করে। যারা বিশেষ আনসার হিসেবে চাকরি পায়। কামরুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হচ্ছিল না। ১৯৯৯ সালে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসলো যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় তাদের পুনর্বাসন করা হবে। তখন আরও অনেকের মতো আমিও আত্মসমর্পণ করি। এরপর আনসার বাহিনীতে মাস্টাররোলে বিশেষ আনসার হিসেবে নিয়োগ পাই। প্রতিশ্রুতি ছিলো, পরবর্তীতে আত্মীকরণের মাধ্যমে আমাদের ব্যাটালিয়ন আনসার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে চাকরি স্থায়ী করা হবে। এরপর ১৭ বছর কেটে গেছে। কিন্তু চাকরি স্থায়ী হয়নি। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত বিশেষ আনসার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘১৭ বছর বিশেষ আনসার হিসেবে চাকরি করছি। বর্তমানে বেতন পাই সাড়ে আট হাজার টাকার মতো। নতুন বেতন স্কেলে এক হাজার ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। আনসারের অন্য সদস্যরা আগামী মাস থেকে এ টাকা ঠিকই পাবেন। কিন্তু পাবো না কেবল আমরা।’ তিনি বলেন, মেয়েটা সপ্তম শ্রেণিতে ও ছেলেটা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন চট্টগ্রামেই। পুলিশ লাইনে কর্মরত থাকার কারণে সেখানকার কর্মকর্তারা প্রায়ই সাহায্য-সহযোগিতা করেন বলেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখনও বেঁচে আছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ