শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সীমান্তে যেকোনো সমস্যা মোকাবিলায় বিজিবির সক্ষমতা রয়েছে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  স্টাফ রিপোর্টার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সীমান্ত সুরক্ষা ও সমস্যার উত্তরণে ভারত-মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অনেক বিষয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, সীমান্তে যেকোন সমস্যা মোকাবিলায় বিজিবির সক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বিজিবিকে আরো শক্তিশালী করা হবে।গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি’র সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কমান্ডিং অফিসারদের সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন।  এ সময় স্বরাষ্ট্র সচিব ড.কামাল উদ্দিন আহমেদ, বিজিবি’র প্রধান মেজর জেনারেল আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অধিনায়ক সম্মেলনের আলোচনা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবির কমান্ডিং অফিসাররা তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা জানিয়েছেন। সীমান্তে রাস্তা ও বিওপি বাড়ানোর কথা বলেছেন। 
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে ছোটখাটো সমস্যা হয়, হতেই পারে। আমাদের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা চলছে। আমরা মনে করি আলোচনাই সমস্যা সমাধানের নিয়ামক হতে পারে। 
এর আগে সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান, মাদক, নারী ও শিশু পাচারসসহ অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের বিষয়ে বিজিবি কমান্ডিং অফিসাররা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
অধিনায়ক সম্মেলনে বিজিবির বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এর আগে বুধবার মেহেরপুরে এক অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন সীমান্তে হত্যা নিয়ে বক্তব্য দেন। সে বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবির মহাপরিচালক মেহেরপুরে যা বলেছেন, তা সঠিকভাবে গণমাধ্যমে আসেনি। সঠিক কথাটা হলো, তিনি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মহাপরিচালককে উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘ওদের ওখানে (ভারতে) গিয়ে বাংলাদেশীরা সহিংস হয়ে যায়, তাই তারা আত্মরক্ষার্থে গুলী চালাতে বাধ্য হয়।’ বিএসএফের মহাপরিচালক এ কথা বলেছেন বিজিবির মহাপরিচালককে।
সীমান্ত হত্যা কেন বন্ধ হচ্ছে না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বহু কারণে এটা হয়। সেসব কারণ চিহ্নিত হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে এটা কমছে। আজ থেকে ১০ বছর বা ৫ বছর আগের হিসাব করলে দেখবেন অনেক কমে গেছে। ভবিষ্যতে আরও কমে যাবে বলে আশা করি।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন , বাংলাদেশে কত রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই ।
৬৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে এসেছে বলে যে পরিসংখ্যান বেরিয়েছে, এটি সঠিক নয় বলে বিজিবির মহাপরিচালক যে মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো এখনো গুনে ফিগারটা দেখিনি। একেকজন একেক রকম বলেছেন। কেউ বলছেন ৪৫ হাজার, কেউ ৬৫ হাজার। সেটাই মহাপরিচালক বলেছেন। আমরা পরে হিসাব করে জানাব।’
সীমান্ত সুরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ এখন কী জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেটা মনে করি আমাদের সঙ্গে ভারতের একটা ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা সবকিছুই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই।  ভবিষ্যতেও তাই চলবে। মিয়ানমারের সঙ্গেও আমরা সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছি এবং তা বেশ কিছুদূর এগিয়েছে। যত বেশি আলোচনা করতে পারব, তত সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে এর মধ্যে আমরা যে বসে আছি তা নয়। আমরাও বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি। তাদের যা প্রয়োজন তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরাও  তৈরি রয়েছি যাতে কোনো ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা প্রতিহত করতে পারি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাটালিয়ন কমান্ডারদের সম্মেলনে তারা কিছু সুবিধা-অসুবিধার কথা জানিয়েছেন। ক্রমান্বয়ে সেগুলোর সমাধান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ