বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সখীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের জমি দখলের চেষ্টায় বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের সখীপুরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও তার পরিবার মিলে দুই সহোদর মুক্তিযোদ্ধা ও তার ভাইয়ের ৮০ শতাংশ জমি জবর দখলের চেষ্টায় বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কালিয়ানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কালিয়ানপাড়া গ্রামের মৃত ঘুঘুর আলী সিকদারের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল তাহের সিকদার, মুক্তিযোদ্ধা মৃত আঃ রশিদ সিকদার এবং আবু জাফর সিকদারের গজারিয়া কীর্ত্তণখোলা মৌজার ১৪০২ দাগের পৈত্রিক ৮০ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিবেশী  উপজেলা যুবলীগের সদস্য আবদুল আলিম ও  তার চাচা খুরশেদ আলমের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই পরিবার কর্তৃক বার বার ওই জমিটি দখলের চেষ্টা করায় ২০০৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা তাহের সিকদার, রশিদ সিকদার এবং জাফর সিকদার বাদী হয়ে ওই দখলদারদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জর্জ কোর্টে বাটোয়ারা মামলা করেন। (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট মোকাদ্দমা নং ৬৯৪/১৬)। পরে বিজ্ঞ আদালত ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর উক্ত জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা (১৪৪) জারি করেন। মঙ্গলবার বিকেলে ওই যুবলীগ নেতা ও তার পরিবার মিলে দলীয় ক্ষমতা দেখিয়ে ওই জমির ওপর আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্টায় বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। এর আগে ২০১৫ সালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান তালুকদার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কৃর্তক তদন্ত কমিটির রিপোর্টে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষেই রায় হয়। তাতে লেখা উক্ত জমির ওপর স্বাক্ষী গ্রহণ কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং সরেজমিন তদন্ত করে জমিটি ঘুঘুর আলী সিকদারের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল তাহের সিকদার, মুক্তিযোদ্ধা মৃত আ: রশিদ সিকদার এবং আবু জাফর সিকদারেরই সত্যতা মিলে। 

মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল তাহের বলেন, ওই ৮০ শতাংশ জমি আমার বাপ-দাদার আমল থেকে ভোগ দখল করে আসছি। দখলদাররা আমার বাবার কাছ থেকে ১৩৯২ ও ১৪০১ দাগে ২ একর ৮৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে থাকলে তারা তা দখলে আছেন। ওই দলিলে ১৪০২ দাগ উল্লেখ না থাকলেও জোরপপূর্বক তারা  ১৪০২ দাগের এ জমিটি দখলের চেষ্টায় দা দিয়ে কুপিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা আবদুল আলিম বলেন, আমাদের ক্রয়কৃত জমি বুঝে নিতে চাইলেই তারা বাধা প্রদান করেন। 

সখীপুর থানার এএসআই এমদাদুল হক বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ওই জমির ওপর মহামান্য আদালত নিষেধাজ্ঞা জারী করলে আমি উক্ত বিষয়টি নোটিশের মাধ্যমে উভয়পক্ষকে জানিয়ে দেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ