বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ফোন নম্বর জালিয়াতি করে প্রতারণা ॥ আটক ৯

স্টাফ রিপোর্টার : মোবাইল ফোনে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয় এমন একটি চক্রের নয় সদস্যকে আটকের কথা জানিয়েছে র‌্যাব। তারা বলছে, চক্রটি ইউএনও ও জেলা প্রশাসকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর ব্যবহারে ‘কল স্পুফিং’ করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর রাজধানীর উত্তরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির এই নয় সদস্যকে আটক করা হয়। এরা হলেন- মো. আশরাফুল ইসলাম ওরফে আপেল (২০), মাহমুদুল হাসান ওরফে হাসান ওরফে হৃদয় চৌধুরী ওরফে রবিন (১৯), মো. রাকিবুল ইসলাম, মো. মহিদুল ইসলাম ওরফে মিলন (২০), মো. আবু কাউছার ওরফে সাবু (১৯), মো. নাজমুল হাসান (১৯), মো. আমানউল্লাহ আমান (২৮), মো. সাগর হোসাইন ওরফে সাগর (২৬), মো. বিল্লাল হোসেন ওরফে বিল্লাল (২১)।

র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংঘবদ্ধভাবে কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ অনেক জেলা প্রশাসকের নম্বর ‘স্পুফিং’ করে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণা করার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে আসামীরা। অন্তত ৪০টির বেশি উপজেলার ইউএনওর পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫০ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করার কথাও স্বীকার করেছে তারা।

আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারক চক্রটি ‘ইয়েস গ্রুপ অ্যাপ’ নামের সফটওয়্যারের মাধ্যমে মোবাইল নম্বর স্পুফিং করে থাকে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও জনসাধারণের কাছে যাওয়া কলে সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও ডিসিদের মোবাইল ফোন নম্বর দেখায়। আর প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের মাধ্যমে ইউএনও ও ডিসিদের পরিচয়ে গম, চাল এবং অন্যান্য কাজের জন্য বরাদ্দের কথা বলে বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও জনসাধারণের কাছ থেকে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। ‘ইয়েস কার্ড অ্যাপ’ মূলত বহির্বিশ্বে প্রচলিত ‘আইটেল মোবাইল ডায়ালার’ সফটওয়্যারটির রূপান্তরিত সংস্করণ। এ ধরনের সফটওয়্যারগুলোর সার্ভার বিদেশে নানা প্রতিষ্ঠানের হয়ে থাকে। কল করলে কলটি সেই সার্ভার হয়ে বাংলাদেশের গেটওয়ে দিয়ে টার্গেট ব্যক্তির মোবাইল ফোনে আসে। যার কারণে যে নম্বরে কলটি আসে, সেটিতে রেকর্ড থাকলেও যার নম্বর ব্যবহার করা হয় সেটিতে কোনো রেকর্ড থাকে না। কারণ এই স্পুফিং কলে কোনো অপারেটরের টাওয়ার ব্যবহার হয় না। প্রতারিত ব্যক্তি সেই নম্বরে কল ব্যাক করলে সেটি প্রকৃত ব্যবহারকারীর কাছেই যাবে এবং তখনই কেবল প্রতারণার বিষয়টি বোঝা যাবে।

এছাড়া চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া নামে রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল সিম ব্যবহার করেও টাকা হাতিয়ে নেয়ার কাজ করে আসছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্ট রয়েছে এরকম আটটি সিম এবং ভুয়া নামে রেজিস্ট্রেশন করা আরও ২১টি সিম উদ্ধার করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ