শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সিলেটের রাগীব আলী ও তার পুত্রের ১৪ বছর করে কারাদন্ড

সিলেট ব্যুরো : ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় সিলেটের রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে ১৪ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় এ রায় ঘোষণা করেন সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো।
এ রায়কে ঐতিহাসিক একটি রায় আখ্যা দিয়ে সিলেটের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, দুই আসামীকেই ১৪ বছর করে কারান্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দন্ডবিধির ৪৬৬ ধারা ও ৪৬৮ ধারায় উভয়কে ৬ বছর করে সশ্রম কারাদ- ও ধারা দুটিতে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। অর্থ অনাদায়ে আরও ৩ মাস করে কারাদন্ডের আদেশ দেন আদালত। এছাড়া ৪২০ ধারায় ১ বছর এবং ৪৭১ ধারায় ১ বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর আলোচিত এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
তারাপুর চা বাগান নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর ১৯৯৯ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তৎকালীন ভূমি কমিশনার (এসিল্যা-) এসএম আব্দুল কাদের। এছাড়া সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন তিনি। মামলায় ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা সিলেটের হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের জমি আত্মসাতের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জাল করার অভিযোগ আনা হয় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই’র বিরুদ্ধে। এই মামলার বিরুদ্ধে রাগীব আলী উচ্চ আদালতে গেলে দীর্ঘদিন পর গত বছরের শুরুতে তা নিষ্পত্তি হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গত ১৯ জানুয়ারি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে মামলা পুনরায় চালুর নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে তারাপুর চা-বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। ওই আদেশের পর ১৫ মে চা-বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়াও ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। মামলা হওয়ার ১১ বছর পর গত বছরের ১০ জুলাই সিলেটে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে তারাপুর চা বাগান আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জাল করেন। এই মামলার দুই আসামীই জেল হাজতে রয়েছেন।
মামলায় গত ১০ আগস্ট রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাইসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে সিলেট মহানগর মুখ্য হাকিম আদালত। ওই দিনই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান তিনি। গতবছরের ১২ নবেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ। আর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ২৪ নবেম্বর ভারতে গ্রেপ্তার হন রাগীব আলী। ওই দিনই সিলেটের সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে তাকে দেশে এনে সিলেট কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার। রাগীব আলীর স্মারক জালিয়াতি মামলার রায় হলেও তার বিরুদ্ধে ভূমি আত্মসাতের মামলায় এখনও সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এ মামলার আসামীদের মধ্যে রাগীব আলী, আবদুল হাই জেলে রয়েছেন। জামিনে আছেন সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত ও মোস্তাক মজিদ। আর রাগীবের জামাতা আবদুল কাদির ও মেয়ে রুজিনা পলাতক। ৭৮ বছর বয়সী রাগীব আলী সিলেটের আলোচিত-সমালোচিত শিল্প উদ্যোক্তা। ব্যাংক, চা বাগান, শিক্ষা, চিকিৎসা, মিডিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার বিনিয়োগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় সরকারি সম্পত্তি, দেবোত্তর সম্পত্তি দখলেরও অভিযোগ উঠেছে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে। বর্তমানে বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথের কামালবাজারে জন্ম নেয়া রাগীব আলী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ