শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতির বিধান অনুসারে ৬ মাসের মধ্যে মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন, শ্রমমন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) এই সেল গঠন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গৃহকর্মী সুরক্ষায় সরকারের করা নীতিমালা বাস্তবায়নের নির্দেশও দিয়েছে হাইর্কোট।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী এবং বিচারপতি কাজী মো. ইজহারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গণমাধ্যমে গৃহকর্মীদের দুর্দশার খবর প্রকাশ হওয়ার পর ২০১৪ সালের ১ জুলাই হাইকোর্টে রিট করে রাইটস ফর পিস ফর বাংলাদেশ। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। 

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, বাংলাদেশে লাখ লাখ গৃহকর্মী কাজ করে। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কোনো আইন ছিল না। এজন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছিল। এজন্য আমরা রিট দায়ের করেছিলাম। আদালত ওই রিট শুনে আদেশ দিয়েছিলেন গৃহকর্মীদের নির্যাতন বন্ধে কেন আইন প্রনয়ণের নির্দেশ দেয়া হবে না। এক্ষেত্রে আমরা একটা সম্পুরক আবেদন করি যে, এ বিষয়ে ২০১৬ সালে সরকার একটি নীতিমালা তৈরি করেছে। ঐ নীতিমালায় কতগুলো গাইডলাইন দেয়া হয়েছে।

এই আইনজীবী বলেন, মনিটারিং সেলে বিভিন্ন অভিযোগ করা যাবে। এই মনিটারিং সেল নীতিমালা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, গৃহকর্মীদের কী কী সমস্যা হচ্ছে তা দেখবে। 

২০১৫ সালে সরকার গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি গ্রহণ করে। এতে গৃহকর্মীদেরকে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এই নীতিমালায় তাদেরকে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন দেয়া, চাকরি থেকে অপসারণের অন্তত এক মাস আগে জানানো, কোনো কারণে জানাতে না পারলে ৩০ দিনের বেতন প্রদান করার কথা বলা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী পাশাপাশি ১২ বছরের নিচে কাউকে চাকরি দিলে তৃতীয় পক্ষের অনুমতি নিতে হবে। পরিশ্রমের পাশাপাশি বিনোদনের জন্য সময় দেয়ার কথাও বলা আছে নীতিমালায়। মাতৃত্বকালীন ছুটি হিসেবে চার মাসের বেতনসহ ছুটি দেয়ার কথাও আছে এতে। কোন কারণে গৃহকর্মী অসুস্থ হলে তার সুস্থতার জন্য সম্পূর্ণ খরচের ব্যয়ভার বহন করবে নিয়োগকর্তা। কিন্তু এই নীতিমালাটি আইনে পরিণত করা যায়নি এখনও। এই নীতিমালা কবে আইনে পরিণত হবে-সে বিষয়েও কোনো ধারণা নেই অধিকার কর্মীদের কাছে। আর এই নীতিমালার বাস্তবায়নও হয়নি এখনও।

বাংলাদেশ ইনস্টিউট অব লেবার স্টাডিজ এর গবেষণা বলছে, সামান্য অভিযোগে গৃহকর্মীদের উপর হাত তুলতে দ্বিধা বোধ করেন না গৃহকর্তারা। মারধরের জন্য ব্যবহার করা হয় রান্নার কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে। ছেঁকা দেয়া হয় গরম খুরচুন দিয়ে, ছুরি দেয়া, আঁচড় দেয়া হয় ইত্যাদি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জরিপ বলছে, ২০১৪ সালে ১০০ জন গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে ৩৮ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। যাদের মধ্যে ২০ জনের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। শারীরিক নির্যাতনের ফলে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের আর অন্যান্য নির্যাতনের ফলে মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিন জন এবং ধর্ষণের কারণে মৃত্যু হয়েছে আরো তিন জনের।

বিলস’র মতে, গত দশ বছরে নির্যাতন হন ৭৯৮ জন গৃহশ্রমিক। এর মধ্যে মারা যান ৩৯৮ জন শ্রমিক। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত খুন হয়েছেন ৫৪ জন তার মধ্যে সবাই খুন হন ধর্ষণের জন্য। প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী ৪৭ শতাংশ গৃহকর্মী দিনে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘন্টা কাজ করে। দীর্ঘ এত সময় কাজ করার পর তাদের মাসে আয় হয় গড়ে ৫০৯ দশমিক ৬ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ