শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ট্রাম্পের আদেশ বেআইনী -জাতিসংঘ

সংগ্রাম ডেস্ক : শরণার্থী সীমিতকরণের নামে সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশকে বেআইনী আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র শরণার্থীদের না নিলে তারা দেশে ফিরে গিয়ে নির্যাতনের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অভিবাসন সীমিত করতে ট্রাম্পের সই করা নির্বাহী আদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোও এর সমালোচনা করেছে এবং ভ্রমণকারীরা ধাঁধায় পড়েছে। ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে আইনী লড়াইও হয়েছে। সংবিধান স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা ওই আদেশের কারণে ব্যাহত হয়েছে বলে সমালোচনা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্প প্রশাসনকে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা মানুষজনদেরকে সুরক্ষার আহ্বান জানান। জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভিত্তিতে নির্বিশেষে সবার জন্য সমান অধিকারের নীতি সমুন্নত রাখারও আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থীদেরকে ফিরে যেতে বাধ্য করা উচিত না বলে মত দেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, “এ ধরনের আদেশ স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। মানুষের জাতীয়তার ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতে করে মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচয়ে আরও তকমা এঁটে দেওয়াই হবে।” “তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতির কারণে শরণার্থীদের দেশে ফিরে গিয়ে আরও নির্যাতিত হওয়ার ঝুঁকিও আছে। কোনও শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থীকে নির্যাতন, দমনপীড়নের মুখে ফিরে যেতে বাধ্য করাটা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।”
জাতিসংঘের নিরপেক্ষ এই বিশেষজ্ঞ দলে আছেন শরণার্থী বিষয়ক বিশেষ জাতিসংঘ কর্মকর্তা, বর্ণবৈষম্যবাদ, মানবাধিকার বিষয়ক এবং সন্ত্রাস-বিরোধী কর্মকর্তারাসহ নির্যাতন বিষয়ক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কর্মকর্তারা। এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রাদ আল-হুসেইন সোমবার বলেছেন, জাতীয়তার মাপকাঠিতে জনগণের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ বেআইনী।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যাওয়া লোকজন অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক হতে পারে কিংবা তাদেরকে ফেরত পাঠানো হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধসংঘাত পেরিয়ে আসা  মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য হিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন রেক্স টিলারসন
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন এক্সন মবিলের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী রেক্স টিলারসন।
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তাকে শপথ পড়ান মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট।
রাশিয়া ঘেঁষা টিলারসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
 শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও বুধবার সিনেট ৫৬-৪৩ ভোটে ৬৪ বছর বয়সী টিলারসনের নিয়োগ চূড়ান্ত করে।
রিপাবলিকান সিনেটররা অবশ্য এর আগেই ট্রাম্পের মনোনীত স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নিয়োগ নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের বয়কটের মুখেও নিয়ম পরিবর্তন করেছিলেন।
শপথ নিয়ে টিলারসন বলেছেন, এ প্রেসিডেন্টের আমলে তিনি সবসময় আমেরিকার জনগণের স্বার্থেরই প্রতিনিধিত্ব করে যাবেন।
টিলারসনের কোনও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টিওপরীক্ষার মুখে পড়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে অনেক সিনেটর উদ্বেগও প্রকাশ করেছে।
তবে রিপাবলিকানরাসহ টিলারসনের অন্যান্য সমর্থকরা বলছেন, দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তিনি একজন বলিষ্ঠ নেতাই হবেন।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ভুল এতে বিভেদ বাড়বে : যুক্তরাজ্য
মুসলিমবিরোধী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশকে ভুল পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিলো যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সাতটি দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এই নিষেধাজ্ঞায় কেবল বিভেদ বাড়বে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের এক প্রশ্নের জবাবে এইসব কথা বলেন থেরেসা মে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে সাপ্তাহিক প্রশ্নোত্তর পর্বে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশের ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কছে প্রশ্ন রাখেন।  প্রশ্নোত্তরে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন থেরেসা মে। সংসদে তিনি বলেছেন, ‘ব্রিটিশ সরকার মনে করে, আমেরিকার এই নীতি ভুল। আমরা এই পথে হাঁটবো না। ছয় বছর স্বরাষ্ট্রসচিব থাকার সময় কখনও এমন নীতি অনুসরণ করিনি। আমরা সত্যিকার অর্থেই মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত ভুল। এতে শুধু বিভেদই বাড়বে।’
কয়েকদিন আগে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠককালে এমন নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে কোনও আগাম তথ্য পাননি বলেও জানিয়েছেন থেরেসা মে। সংসদে লেবার নেতা করবিনকে ইঙ্গিত করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিনি যদি জানতে চান, শরণার্থীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ব্যাপারে আগাম অবহিত ছিলাম কিনা এবং এই আদেশ ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর কতোটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তাহলে আমার উত্তর হচ্ছে- না।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবরের শিরোনাম হওয়া কিংবা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করা সরকারের কাজ নয়। ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষাকেই আমরা প্রাধান্য দেই। আমরা সেটাই করেছি।' করবিনকে ইঙ্গিত করে তির্যকভাবে থেরেসা বলেছেন, 'তিনি হয়তো প্রতিবাদ সমাবেশ পরিচালনা করতে পারেন, কিন্তু আমাকে ভাবতে হয় দেশের নেতৃত্ব নিয়ে।’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেই তুরস্ক সফরে  যান থেরেসা। শনিবার সেখানে সাংবাদিকরা ওই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে তার অবস্থান জানতে চান। জবাবে থেরেসা জানিয়েছিলেন, সহিংস ইসলামিদের হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করা উচিত ট্রাম্পের। মে আরও জানান, অভিবাসন নিয়ে এটা যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নীতি।
তবে শনিবার শেষ বেলায় লন্ডন ফেরার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নিজ দলের এমপিদের তোপের মুখেও পড়েন তিনি। এর পর থেরেসা মের এক মুখপাত্র জানান, ব্রিটেন ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি দেশটির একান্তই নিজস্ব। যেমন আমাদের নিজেদের করা উচিত। কিন্তু এ ধরনের (নিষেধাজ্ঞা) পদক্ষেপ আমরা সমর্থন করি না। আমরা নতুন এই নির্বাহী আদেশ পর্যবেক্ষণ করছি।
এবার পার্লামেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমবিরোধী অভিবাসননীতির বিপক্ষে নিজের অবস্থান জানালেন মে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ