বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ভারত থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ দল -হাথুরু সিংহে

স্পোর্টস রিপোর্টার : টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার সকাল ১১টায় ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টেস্টের এক নম্বর দল ভারতের বিপক্ষে ৯ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদে রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ভারত। তবে এই টেস্ট নিয়ে ভালো কিছুর আসা বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হাথুরু সিংহের। ভারত বিশ্বের এক নম্বর দল হলেও তাদের বিপক্ষে লড়াই করার ব্যাপারে আশাবাদী হাথুরুসিংহে। এ নিয়ে হাথুরু সিংহে বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই জিতলে ভালো লাগবে আমাদের। তবে ভারত সফরে গিয়ে খেলাটা খুব কঠিন। দেশের মাটিতে ওরা দারুণ দল। রেকর্ড সেটাই বলছে। তবে আমরাও আত্মবিশ্বাসী যে ভালো লড়াই করতে পারব। কারণ টেস্টেও আমরা প্রতিনিয়ত উন্নতি করছি।’ এই সফরে বাংলাদেশের স্পিনারদের এগিয়ে রাখলেন হাথুরুসিংহে। তার মতে ভারতের মতোই বাংলাদেশ দলে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ এবং বিশ্বমানের স্পিনার রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের অনেক ভালো স্পিনার আছে। (রবিচন্দ্রন) অশ্বিন অনেক অভিজ্ঞ, র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর বোলার। আরও দুজন ভালো স্পিনার আছে ওদের। তবে তার মানে এই নয় যে আমাদের স্পিনাররা ভালো নয়। আমাদের স্পিনাররাও স্কিলফুল। আমাদের সাকিব আল হাসান আছে, মিরাজ ও তাইজুল আছে, ওরা টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ করেছে। হ্যাঁ, ওরা (ভারত) বেশি অভিজ্ঞ। তার মানে এই নয় আমরা পিছিয়ে।’ নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে খেলে আসার অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পুরো উল্টো কন্ডিশনে খেলতে হচ্ছে টাইগারদের। সব মিলিয়ে তাই হাথুরুসিংহের কাছে টেস্টটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। এই টেস্ট নিয়ে কোচ বলেন, ‘ভারতে ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জটা বেশি থাকবে। কাজটা মোটেও সহজ নয়। মাইন্ডসেট ও শট নির্বাচনের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ওখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে আমাদের। এছাড়া থাকছে কিছু অনুশীলন সেশন। যতটা পারা যায় প্রস্তুত হওয়ার চেষ্টা করব আমরা। কিন্তু ব্যাপারটা হলো, ভারতের কন্ডিশন অনেকটাই বাংলাদেশের মতো। আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নিতে।’ ভারতের বিপক্ষে একটিমাত্র টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। আর এই ছোট সফরেও সন্তুষ্ট হাথুরুসিংহে। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। একটা টেস্ট খেলছি, এটা ভাবার চেয়ে ইতিবাচক দিকটাই বেশি ভাবছি। প্রথমবার ভারতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছি, এই মানসিকতা নিয়েই আমরা খেলতে যাচ্ছি।’ নিউ জিল্যান্ডে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর আর মাঠে নামেননি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। টেস্ট সিরিজের আগে চলেও আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার ব্যথা ও মানসিক অস্বস্তি দূর করতেই রেখে দেওয়া হয়েছিল দলের সঙ্গে। লাভ তাতে খুব একটা হয়নি। মুস্তাফিজ আছেন আগের অবস্থানেই। তাই তাকে দলে রাখা হয়নি। মুস্তাফিজকে নিয়ে কোচ বলেন,‘ কিছু করার নেই। কারণ ওর বড় একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। ফিরতে সময় লাগেই। চোটের পর ফেরার প্রক্রিয়াতেই আছে সে। নিউ জিল্যান্ডে সে ১২৭-১২৮ কিমি গতিতে বল করেছে। আগে ১৪০ করত। পুরোপুরি ফিট হতে সময় লাগবে। আমাদের পরিকল্পনায় আছে শ্রীলঙ্কায় পুরো ফিট হিসেবে ওকে পাওয়া। মেডিকেল দিক থেকে আমরা সব ছাড়পত্রই পেয়েছি ওকে নিয়ে। তবে মাঠে চাপের মধ্যে খেলা এবং নিজের স্কিল দেখানো পুরো অন্য ব্যাপার। ক্রিকেটার নিজে কেমন অনুভব করছে, সেটাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হয়েছে আমাদের। কারণ মেডিক্যালি আমরা কিছু পাইনি। ওর কথাই তাই শুনতে হয়েছে।’ চোট কাটিয়ে নিউ জিল্যান্ড সফরে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেছিলেন মুস্তাফিজ। সেটিও দেড় মাস আগে। এখনও তাহলে কেন পুরো ফিট নন? কোচ বলেন,‘ সবার কণ্ঠে এই কথাই। আরও সময় দিতে হবে। তবে তার মনোভাব নিয়ে সবার দুশ্চিন্তাও স্পষ্ট। তাকে ফেরানোর পথরেখাও খানিকটা জানালেন প্রধান নির্বাচক। যে কোনো খেলোয়াড়েরই বড় একটা ইনজুরির পর একটু অনীহা থাকে, সেটা যে ধরণের ইনজুরিই হোক না কেন, যদি কেউ পা ভঙে ফেলে, তার পরও মনে হয় সুস্থ হয়ে হাঁটতে যে আরেকটু বেশি সময় নেই। বোলিং অন্য একটি স্কিলের ব্যাপার। ওকে আরও বেশি সময় দিতে হবে আমাদের। মুস্তাফিজ কিন্তু অনুশীলনের মধ্যে বোলিং করছে। চার ওভার, পাঁচ ওভার, গড়ে কত স্পিডে বোলিং করছে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ