শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

খুলনাঞ্চলে চালের দাম বাড়ছে মিলাররা দুশ্চিন্তায়

খুলনা অফিস ঃ দিন দিন চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার জামানত হারানোর ভয়ে রয়েছে খাদ্য গুদামের সাথে চুক্তিবদ্ধ রাইস মিল মালিকেরা। এ দিকে আমন চাল সংগ্রহে হিমসিম খাচ্ছে খাদ্য গুদাম। চাল সংগ্রহের দু’মাস পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক চালও সংগ্রহে সক্ষম হয়নি খাদ্য গুদাম। এ ভাবে চালের দাম বাড়তে থাকলে জামানত হারাতে হবে বলে জানান মিলাররা। উপজেলা খাদ্য গুদাম পরিদর্শক মুহা. আব্দুস সোবাহান সরদার জানান, চলতি আমন সংগ্রহ মওসুমে ১ ডিসেম্বর থেকে ডুমুরিয়ায় ৩৩ টাকা কেজি মূল্যে ২৯৩ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নিয়ে চাল সংগ্রহ শুরু করা হয়। এ জন্য জামানত গ্রহণপূর্বক ২৫ জন মিলার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু খুচরা বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মিলাররা যথেষ্ট চাল সরবরাহ করছে না। তাদের বার বার তাগিদ দেয়ার পরেও এ পর্যন্ত মাত্র ১৭২ মেট্রিক টন সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। যথা সময়ে মিলাররা চাল দিতে ব্যর্থ হলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।
মিলার মো. রুহল গাজী, অরুন মজুমদার, স্বপন মজুমদার ও নাজিম উদ্দিন জানান, ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি কেজি চালের মূল্য পড়ছে গুদামে বিক্রি মূল্যের চেয়ে কেজি প্রতি ৩/৪ টাকা বেশী। এমতবস্থায় গুদামে চাল সরবরাহের বিষয়টি যেন গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। সরকার চালের মূল্য বৃদ্ধি না করলে আমাদের জামানত হারাতে হবে।
এ দিকে খুচরা চাল বিক্রেতা ধীরেন্দ্র নাথ রাহা, তপন সাহা ও মুজিবুর রহমান জানান, বর্তমান প্রতি কেজি ২৮ চালের দাম ৪৪ টাকা, চাপাল ৪০ টাকা, সিদ্ধ মোটা ৩৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ফলে অধিক পুঁজি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। কিন্তু সেভাবে মুনাফা হচ্ছে না।
ভান্ডারপাড়া এলাকার ভ্যানগাড়ি চালক আকবর আলী, ডুমুরিয়া বাজারস্থ আব্দুল মান্নান, দিন মজুর আব্দুল হাই জানান, দিনে দিনে চালের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে আমাদের বেঁচে থাকা খুব কষ্টের হয়ে পড়েছে। কাঁচা মাল, তেল, লবণ, চাল সব কিছুই যদি দাম বাড়ে তাহলে কিভাবে ছেলে-মেয়ে বাঁচাবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ