শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

করের আওতায় আসছে ফাস্ট ফুড-জাঙ্ক ফুড

সংসদ রিপোর্টার : আর্থিক বছর জুলাই-জুন ই বহাল থাকছে বলে বলে সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি আরো জানান, আগামী অর্থ বছর থেকে ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড করের আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নুরজাহান বেগমের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের সম্পূরক প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী একথা বলেন।
তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়টি নিয়ে এই সংসদে কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। আমি সেখানে আমার অবস্থান তুলে ধরেছি। আমাদের দেশ যখন স্বাধীন হল, আমাদের অর্থ বছর ছিল এপ্রিল টু মার্চ। কিন্তু পরবর্তীতে জুলাই টু জুন করা হয়। জুলাই টু জুন করার জন্য তার আগে যথেষ্ট আন্দোলন ও চিন্তাভাবনা হয়েছে। এই জাতীয় সংসদে এ ব্যাপারে অনেক বিতর্ক হয়েছে।
বিতর্কের মূল কথা ছিল আমাদের দেশে এমন সময়ে বাজেটটি করা উচিত যেসময় কাজকর্ম করার সুবিধা থাকে। আমাদের দেশে কাজকর্ম শুরু হয় সেপ্টেম্বরের দিকে। সেই জন্য জুলাই মাসে যদি বাজেট তৈরি করা যায় তাহলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজেটি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা হয়ে যায়। সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই লম্বা সময় পাওয়া যায়। যেটা এপ্রিল টু মার্চে একেবারে রিক্সিট (রিক্সি) হয়ে যায়। এপ্রিল টু মার্চে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সব কাজকর্ম বন্ধ করে আগামী বাজেটের চিন্তাভাবনা করতে হয়। সেই দিক দিয়ে আমার বিবেচনায় এবং আমাদের সরকার এখন পর্যন্ত নেই সিদ্ধান্তে অটল। আমাদের জন্য সবচেয়ে ভাল সময় হচ্ছে জুলাই থেকে জুন। জুলাই থেকে জুন’ আমরা অব্যাহত রাখব।
ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুডে কর বাড়ছে
নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী আরো জানান, আগামী অর্থবছরে বাজেট প্রণয়নের সময় অবশ্যই ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুডের উচ্চ হারে ফ্যাট ট্যাক্স নির্ধারণে নজর দেয়া হবে।  নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী বিশেষ একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর। জাঙ্ক ফুড বেশ সস্তা দামে পাওয়া যায়। সে কারণে জাঙ্ক ফুড অনেক বেশী চলে। এটাও ঠিক যে স্বাস্থ্যের দিক থেকে জাঙ্ক ফুড বা ফাস্ট ফুড স্বাস্থের জন্য উপকারী নয়। তিনি আরো বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য প্রস্তুাব করেছেন, আগামী বাজেটে এই সম্পর্কে আমরা কি কোন রকম ট্যাক্স আরোপের চিন্তাভাবনা করছি কি না? সত্যি কথা বলতে কি? আমি সেই চিন্তাভাবনা আগে করিনি কিন্তু ওনার নোটিশ পাওয়ার পরে মনে হচ্ছে, হয়ত এটির উপর আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারি।
বাজেটের বিষয়ে আলোচনা আগামী মাসের শেষ দিকে শুরু করার ইচ্ছা আছে। তাই কাজের মতো কাজ হবে যদি জাঙ্ক ফুডের বিভিন্ন তালিকা ও বিবরণ পাওয়া যায়। কারণ জাঙ্ক ফুড বিভিন্ন রকমের রয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন রকমের জাঙ্ক ফুড রয়েছে। প্রস্তাবটি উত্তম দাবি করে তিনি আরো বলেন, আগামী বাজেট প্রণয়নের সময় সেদিকে (জাঙ্ক ফুড) অবশ্যই নজর দেব। তার আগে জাঙ্ক ফুডকে বিশেষভাবে সংজ্ঞায়িত করা এবং শনাক্ত করা হবে আগামী দুই তিন মাসের কাজ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ