শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে -প্রধান বিচারপতি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বলেছেন, উচ্চ আদালতে মামলার রায় বাংলায় দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে হাইকোর্টের অনেক বিচারপতি বাংলায় রায় দিয়েছেন। বাংলায় রায় দিতে হলে আইনজীবীদের সহযোগিতা করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় দিতে আইনজীবী, লেখক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে।
গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন মিলনায়তনে সুপ্রিম কোর্ট সমিতি বিজয়া পুনর্মিলনী ও বাণী অর্চনা উদযাপন পরিষদের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি প্রখ্যাত আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাংলায় আইনের বই লেখার জন্য সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলায় আমাদের হাইকোর্টে বিচারকরা সুন্দরভাবে রায় দিচ্ছেন। যখন আমার কাছে বাংলায় রায়ের আপিল আসে, আমি সেগুলো দেখি। হাইকোর্টের কিছু কিছু বিচারক বাংলায় ভাল রায় দিতে পারেন। তারা সুন্দর রায় দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের রায় বাংলায় ঘোষণা করতে আইনজীবীদের এগিয়ে আসা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেন বাংলায় বই লিখেন সেজন্য তাদের আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, আইনের বই বাংলায় লিখতে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে।
এস কে সিনহা বলেন, আমরা আপিল বিভাগে এমন ডিভাইস বের করার চেষ্টা করছি রায় দেয়ার সময় ডিকটেশন দেব, যেটি সফটওয়ার হয়ে বাংলায় বের হবে। আমি ও আমাদের আইটি বিভাগ এগুলো নিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি প্রথম প্রধান বিচারপতি যে প্রটোকল ভেঙ্গে পুলিশের হেডকোয়ার্টারে গিয়ে এসপি লেভেলের অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তিন ঘণ্টা তাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিয়েছি। আমি তাদের বলেছি পুলিশের চার্জশিটে কি কি থাকতে হবে আর কি কি থাকবে না।
প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, মুফতি হান্নানের মামলার রায় পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওই মামলায় ট্রায়াল কোর্টের মামলার ত্রুটি ছিল, হাইকোর্টের মামলার ত্রুটি ছিল। সংশোধিত করে আমরা রায় দিয়েছি। এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ট্রায়াল কোর্টের মামলার ত্রুটি ছিল, হাইকোর্টের মামলার ত্রুটি ছিল। আমরা এটা সংশোধন করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হচ্ছে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করায়। পুলিশের দায়িত্ব ব্যাপক বেড়ে গেছে। কোন অপরাধে কি লিখতে হবে, সেগুলো উল্লেখ না থাকলে হবে না। বোঝা যাবে না, আসামী কি ধরনের অপরাধ করেছে। আসামী সহযোগী না কি মূল। তাদের সেগুলো পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার না থাকলে বিচারকদের জামিন দেয়া ও বিচার করা কঠিন হয়ে যায়। তথ্য পরিষ্কার না থাকায় তারা সহজেই জামিন পেয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ