মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জেএমবির আইটি শাখার প্রধানসহ গ্রেফতার ৪ 

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়ায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জেএমবি’র সারোয়ার-তামীম গ্রুপের বর্তমান আইটি শাখার প্রধান আশফাক-ই-আজম ওরফে আপেল ওরফে আব্দুল্লাহসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতার অন্যরা হলো- মাহবুবুর রহমান ওরফে রমি, শাহিনুজ্জামান ওরফে শাওন ও আশরাফ আলী। র‌্যাব-১০ গতকাল বুধবার ভোররাতের দিকে তাদের গ্রেফতার করে। এরা নির্মাণ শ্রমিক পরিচয় দিয়ে গত মাসের ২৩ তারিখে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল জানিয়েছে র‌্যাব। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি বিদেশী পিস্তল, ৪টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, ৭টি ছুরি, আড়াই কেজি বিভিন্ন ধরণের বিস্ফোরক পাউডার, ৫টি পাওয়ার জেল, ৭টি মোবাইল, ৩টি ইলেকট্র্রিক ডেটোনেটর, ২টি সার্কিট ব্রেকার, ৬ প্যাকেট বিয়ারিং বল, কোয়েল ইলেকট্রিক তার একটি এবং বোমা তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। 

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের জানান, সারোয়ার-তামিম গ্রুপের অনেককে এর আগে গ্রেফতার করা হয়। পরে এদের নাম বেরিয়ে আসে। তাছাড়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়। দনিয়ার কবিরাজবাগ এলাকার ২৫১ নং বাসায় এরা অবস্থান করছে- এমন তথ্য নিশ্চিত হয়ে ভোরে ওই বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে সাথে নিয়ে অভিযান চালানো হয়। দ্বিতীয় তলার রুমে দরজা খুলতে বললেও তারা দরজা খুলেনি। পরে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে পিস্তুল-গুলিসহ জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহ্নত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ৫ম তলা বাড়িটির ২য় তলার দুইটি রুম এদের দুইজন ভাড়া নিয়েছিল। কিন্তু তারা ৪ জন থাকত। যা বাড়ির মালিকও জানতো না। 

অভিযানের সময় বাড়ির মালিকের স্ত্রীর শাহীলুর রহমান ও নিচ তলার ভাড়াটিয়া ফারুককে নিয়ে যায় র‌্যাব। তবে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে বলে র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে। ভাড়াটিয়া ফারুকের স্ত্রী কমলা জানান, ভোর রাতে কয়েকজন লোক গেইট খুলতে বলে। এ সময় তিনি উঁকি দিয়ে দেখেন, র‌্যাব। র‌্যাব সদস্যরা তাকে গেইট খুলতে বললে তার কাছে চাবি নেই বলে জানান। সাথে সাথে তিনি তিন তলায় বাড়ির মালিকের বাসা থেকে চাবি আনতে যান। কিন্তু তার আসতে দেরি দেখে র‌্যাব কেসি গেইটে কেটে ভিতরে ঢুকে। তারা প্রথমে মালিকের বাসায় গিয়ে মালিকের স্ত্রী শাহীলুরকে সাথে নিয়ে ২য় তলায় গিয়ে দরজা নক করে। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা না খোলায় র‌্যাব দরজা ভেঙ্গে তাদেরকে পিস্তল-গুলিসহ গ্রেফতার করে। এ সময় তার স্বামী ফারুককে ও মালিকের স্ত্রীকেও নিয়ে যায়।

 ২০১৫ সালে বগুড়ার কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করাকালীন সময়ে আশফাকের সাথে পরিচয় হয় মাহবুবুর রহমানের। মাহবুব বগুড়া অঞ্চলে জেএমবি’র গোপন পার্সেলগুলো পৌঁছে দিত। আশফাকের হাত ধরেই মাহবুব সারোয়ার-তামীম গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং গত বছর চাকরি ছেড়ে চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয়। ২০১৪ সালে মাহমুদুল ইসলামের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে শাহিনুজ্জামান। মাহমুদুল ইসলাম জেএমবি’র দক্ষিণ অঞ্চলের আমীর ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ