মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই খালেদা নির্বাচন করবেন -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খুলনা অফিস : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই খালেদা জিয়া নির্বাচন করবেন ইনশাল্লাহ। পৃথিবীর কোনও দেশে রাষ্ট্রপতির কারও পরামর্শ নেয়ার বিধান নেই। এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানেও নেই। তারপরও শেখ হাসিনা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। আর রাষ্ট্রপতি সব দলের পরামর্শ নিয়েই সার্চ কমিটি গঠন করেছেন।’ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৮টায় খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দল আয়োজিত কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি’র সভাপতিত্বে কর্মিসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি, পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি, মহানগর জাসদ সভাপতি রফিকুল হক খোকন, সাম্যবাদী দলের সম্পাদক কে এম ইকবাল।

বিএনপি-জামায়াত ছাড়া সব দলই সার্চ কমিটি গঠন ভালো হয়েছে বলে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যতো ভালো কাজ করা হোক না কেন, জনগণের কাছে যেতে হবে। আগামী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমেই আগুন সন্ত্রাসীদের চিরদিনের জন্য পরাজিত করতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখন থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়া হয়েছে। আর তাদের মদদে এই খুলনায় হুমায়ুন কবির বালু, মানিক চন্দ্র সাহা, হারুনুর রশিদ খোকনের মতো সাংবাদিকদের হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা এডভোকেট মঞ্জুরুল ইমামসহ অনেককে। নেতাকর্মীদের অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। এই ত্যাগকে ধরে রাখতে হবে।’

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বুধবার দুপুরে খুলনাস্থ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ এবং ২০ শয্যা বিশিষ্ট প্লাস্টিক এন্ড বার্ন ইউনিট-এর উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালকে অনতিবিলম্বে ইন্সটিটিউটে পরিণত করা হবে। চলতি বছরের মধ্যে নেয়া হবে ২৫০ শয্যা চালুর উদ্যোগ। করা হবে গবেষণার ব্যবস্থা। 

মন্ত্রী আরো বলেন, এ হাসপাতালের উন্নয়নে ইতোমধ্যে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এর কাজ অবশ্যই সমাপ্ত করতে হবে। হাসপাতালের উন্নয়নে তার পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার তা করা হবে। হাসপাতালে ১৫টি ডায়াগনস্টিক মেশিন প্রদান এবং দ্রুত চিকিৎসক সংকট দূর করা হবে। তিনি বলেন, শীঘ্রই ডাক্তার ও রোগীদের সুরক্ষায় আইন করা হবে। এ হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশি¬ষ্ট সকলকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি রোগীর সাথে একজন স্বজন রাখার পরামর্শ দেন এবং এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপিদের প্রতি তদারকী করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চালু করেছিলেন কমিউনিটি ক্লিনিক। কিন্তু বিএনপি সরকার তা বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে সেবা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত করেছিল। শেখ হাসিনার অধীনে ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী সরকারকে নির্বাচিত করতে কাজ করার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, তালুকদার আবদুল খালেক এমপি, মুহাম্মদ মিজানুর রহমান এমপি, পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি। হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিধান চন্দ্র গোস্বামীর সভাপতিত্বে অন্যান্যর মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনা বিএমএ’র সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম এবং খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) আবুল কাশেম মো. সাইদুর রহমান, খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমূল আহসান, খুলনা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আবদুর রাজ্জাকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এ হাসপাতালে বর্তমানে ১২২টি বেড চালু ছিল। আইসিইউ এবং বার্ন ইউনিটে মোট ৩০টি বেড চালুর ফলে বেডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫২টিতে।

এর আগে বুধবার সকালে খুলনা জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন জরাজীর্ণ ভবন পরিদর্শন ও হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি তার ভুল বুঝতে পেরেছে। যে কারণে তারা এখন সার্চ কমিটির কাছে নাম দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে করা সার্চ কমিটি সম্পর্কে বিএনপির নেতিবাচক ধারণা ও তা’ প্রত্যাখ্যান ভুল ছিলো। বর্তমান সরকার নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে চায় বলেই সার্চ কমিটির মাধ্যমে তা’ করা হচ্ছে। তিনি খুলনা জেনারেল হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবন অপসারণ করে সেখানে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। খুব শীঘ্রই এ বরাদ্দ দেয়া হবে এবং আগামী মার্চ মাস থেকে কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়াম লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল ও খুলনার সিভিল সার্জন এস এম আব্দুর রাজ্জাক।

পরে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামে খুলনা বিভাগের সিভিল সার্জন এবং জেলার টিএইচও, বিএমএ, স্বাচিপসহ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ