শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

তানোরে আলুর জমিতে রাইজোকটনিয়া রোগ

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর তানোরে হঠাৎ রাইজোকটনিয়া (ডংকার) রোগের কারণে আক্রান্ত হয়েছে আলুর জমি। আর সেই আক্রান্তÍ আলু পরিপক্ক না হতেই চাষিরা তুলে ফেলছে। এতে আলুর ফলনে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অপরদিকে প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে আলু ক্ষেতে পচন রোগও দেখা যাচ্ছে। ফলে আলু চাষীরা বিপাকে পড়েছেন। উপজেলার সরনজাই ও পাঁচন্দর ইউপি এলাকা জুড়ে সর্বত্রই আলু ক্ষেতে এ রাইজোকটনিয়া (ডংকার) রোগ দেখা দিয়েছে। 

অপরদিকে রাইজোকটনিয়া (ডংকার) রোগ মোকাবিলা করতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে ও সহযোগিতা করতে মাঠ পর্যায়ে তৎপর রয়েছেন। তারা বলছেন, একই জমিতে বার বার আলু চাষ হওয়ার কারণে জৈব সারের অভাবে এই রোগ দেখা দিয়েছে। এ বছর কোন কিছু করার নেই। আলু উত্তোলনের পর আমন ধান রোপনের আগে জমিগুলোতে ধইঞ্চার গাছ লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। তাহলে জৈব সারের চাহিদা পূরণ হবে বলে তারা কৃষকদের বলছেন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ্উপজেলায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সরজমিনে সরনজাই খাঁ পাড়ার আলুর মাঠে গিয়ে কৃষক সোহেল রানার সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার ২৫ বিঘা জমি ডংকার রোগে আক্রান্ত হয়। তাই পরিপক্কতার আগেই আলু তুলে ফেলেছি। সে আলুর ফলন প্রতি বিঘাতে মাত্র ১০ বস্তা করে হয়েছে। আলু বাজারজাত ও স্টোরজাত করতে পারছেন না। বাড়ীতে রেখে শুধু মাত্র গোখাদ্য হিসাবে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পরিপক্কতার আগে জমি থেকে তুলছি এ কারণে বোরো ধান রোপন করবো। তাতে করে কিছুটা হলেও লোকসানের হাত থেকে রক্ষা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কৃষিবিদ আব্দুল মোমিন জানান, রাইজোকটনিয়া (ডংকার) রোগে আক্রান্ত আলুর গাছের নিজে অংশের মাটির উপরে আলু ধরে। গাছের গিটে গিটে আলু ধরে। গাছের অনেক শাখা প্রশাখা দেখা দেয়। আলুর আকৃতি টিউমারের মতো হয়। আলু ফাটা ফাটা আকার ধারণ করে। আর মাটির নিচের আলুগুলো কোন কাজে লাগে না। এমন কি বাজারজাত ও স্টোরজাত করাও যায়না। শুধুমাত্র গোখাদ্য হিসাবে বাজারজাত করা যেতে পারে বলে তিনি বলেন। এ নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, একই জমিতে বার বার আলু হওয়ার ফলে অথবা পানি ব্যবস্থাপনা সঠিক না হওয়ার কারণে ও গুনগত বা মান সম্পন্ন বীজ না হলে এ রোগে আলু ক্ষেত আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে আমন ধানের আগে জমিতে ধইঞ্চার গাছ লাগাতে হবে। আর সে গাছগুলো বড় হওয়ার পর কেটে জমিতে পানি দিয়ে পচাতে হবে। তাহলে আগামীতে এ রোগ আর দেখা যাবে না বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ