মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ইসির চাহিদা অনুসারে সহায়তা প্রদান করা হবে

সংসদ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী বিভাগের কর্তব্য। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে সরকার তথা নির্বাহী বিভাগ সকল ধরণের সহায়তা করছে। আগামীতে সব ধরনের সহযোগিতাও অব্যহত থাকবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সাংসদ নাজমুল হক প্রধান ( পঞ্চগড়- ১) এর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সন্ধ্যায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাননীয় উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ায় নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে দশম জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । এ প্রেক্ষিতে নির্বচাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সরকারি ব্যক্তিবর্গের নির্বাচনী প্রচারণায় বিষেয় সুনির্দিষ্ট করে একটি আদর্শ আচরণ বিধিমালা প্রনয়ণ করে।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো দলীয়ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত নারায়াণগঞ্জ সিটি কর্পেরেশন নির্বাচন দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রশংশিত নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচন কমিশনের কাজকে আরো গতিশীল করার জন্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ভবন , কর্মকর্তা কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নিজেস্ব ভবন এবং মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি কার্যালয়ের নিজেস্ব ভবন নির্মাণ করেছে। সকল নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের চাহিদানুযায়ী সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

 ভোটারগণ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন এবং ভোটারগণ নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন সেজন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্ঠির লক্ষ্যে পুলিশসহ আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনোত্তর বিজয়ী-বিজিত প্রার্থী ও তার সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া- সহিংসতায় উদভূত অনাকাংখিত আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, বিজয় মিছিলের বিষয়ে আচরণ বিধি মালা প্রতিপালনসহ তাৎক্ষণিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যে আইন- শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক সকল ধরনের কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

জাতীয় সংসদের সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদার( ঢাকা-১৫) এর তারকা চিহ্নিত অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর টেলিফনিক আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে মালশিয়া সরকার বিদেশী কর্মীদের জন্য সাময়ীক ওয়ার্ক পাস ইস্যুর ঘোষণা দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে মালশিয়ায় অবস্থানরত আনুমানিক ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশী কর্মী সেদেশেই কাজের সুযোগ পাবে। তা না হলে কর্মীদের দেশে ফিরে আসতে হতো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ১৬২ টি দেশে এক কোটিরও বেশী বাংলাদেশী কর্মী বর্তমানে কর্মরত আছে। বিদেশে যেসব কর্মী আনডকোমেন্টেট অবস্থায় আছে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মধ্যমে বৈধকরণ, আইনী সহায়তা প্রদান এবং দেশে ফিরিয়ে অনার ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে সৌদি আরবে প্রায় ৮ লাখ, মালয়েশিয়ায় ২ লাখ ৬৭ হাজার এবং ইরাকে ১০ হাজার আনডকোমেন্টেট অভিবাসীকে বাংলাদেশী শ্রমিকের বৈধতা প্রদান করা হয়েছে।

আইন বহির্ভূত কাজের সাথে জড়িত এজেন্সির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। যে কোন আইন বর্হির্ভূত কাজের সাথে জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টার গুলোকে বৈদেশীক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩২ ও ৩৫ এর আওতায় তাৎক্ষণিক জরিমানা ও কারদণ্ডে দণ্ডিত করছে।

কামরুল আশরাফ খানের (নরসিংদী-২) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে ইউনিয়নে স্থাপিত তথ্য ও সেবা কেন্দ্র (ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার) থেকে গড়ে ৬০ লাখের বেশি গ্রামীণ নাগরিক সেবা পাচ্ছে। আর এখন পর্যন্ত ২৬ কোটি ১৪ লাখ সেবা দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ডিটিজাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ২০১০ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা ইউডিসি স্থাপন করে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র নামে সারাদেশে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে এটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার নামে আত্মপ্রকাশ করে। মূলত ইউনিয়ন পরিষদকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই হচ্ছে এই সেন্টারের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের ১১ নবেম্বর আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এবং নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রশাসক মিস হেলেন ক্লার্ক কর্তৃক ভোলা জেলার চর কুকরিমুকরি ইউনিয়ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার একযোগে উদ্বোধন করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীসহ প্রায় ১২ হাজার উদ্যোক্তা এসব ডিজিটাল সেন্টারে কর্মরত। প্রতিটি সেন্টারে কমপক্ষে একজন নারী এবং একজন পুরুষ উদ্যোক্তা কর্মরত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ