বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মায়ের জিনই সন্তানের মেধা নির্ধারণ করে

বাবা নয়, বরং মায়ের জিনই নির্ধারণ করে সন্তান কতোটুক  মেধাবি হবে। অর্থাৎ বাবার কাছ  থেকে সন্তান  মেধা  পেয়ে থাকে বলে এতোদিন ধরে  যে কথাটি প্রচলিত ছিল তা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গবেষকরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, সন্তান জন্মদানের  ক্ষেত্রে মা ও বাবার কাছ  থেকে দুটি  ক্রোমোজমের প্রয়োজন হয়। একজন নারীর দুটি এক্স  ক্রোমোজম থাকে। আর পুরুষের থাকে একটি। দুটি এক্স  ক্রোমোজম থাকায় সন্তানের বুদ্ধিবৃত্তি নির্ধারণে বাবা নয়, বরং মায়ের জিনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া উন্নত বুদ্ধিবৃত্তির  যে জিনটি বাবার কাছ  থেকে আসে  সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নিস্ক্রিয় হয়ে যায়।
‘কন্ডিশনড বা নিয়ন্ত্রিত জিন’ কিছু  ক্ষেত্রে মায়ের কাছ  থেকে আর কিছু  ক্ষেত্রে বাবার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে  আসে। বুদ্ধিবৃত্তির জিনটি এই নিয়ন্ত্রিত জিনের অন্তর্ভুক্ত, যা মায়ের কাছ  থেকে পায় সন্তান।
গবেষণাগারে ইঁদুরের ওপরের পরিচালিত গবেষণায়  দেখা  গেছে,  যেসব ইঁদুরের ওপর মাতৃসম্বন্ধীয় একটি জিন অতিরিক্ত প্রয়োগ করা হয়েছে,  সেগুলোর মাথা ও মস্তিস্ক বড় হয়েছে কিন্তু  দেহ  ছোট হয়েছে। আর  যেগুলোর  দেহে পিতৃত্ব সম্বন্ধীয় একটি অতিরিক্ত জিন প্রয়োগ করা হয়েছে,  সেগুলোর মাথা ও মস্তিস্ক  ছোট এবং  দেহ বড় হয়েছে।
গবেষকরা ইঁদুরের মস্তিস্কের ছয়টি অংশে এমন কতগুলো  কোষ চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে  যেগুলোর মধ্যে  কেবল মাতৃত্ব অথবা পিতৃত্ব জিন থাকে। এসব জিন খাদ্যাভাস  থেকে শুরু করে স্মৃতিশক্তি পর্যন্ত বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে। পিতৃত্বকালীন জিনে  দেখা  গেছে, এগুলো  কেবল  যৌনতা, খাদ্য ও আগ্রাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো ধারণ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ