মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দেশে প্রয়োজনের মাত্র ১-২% কিডনি প্রতিস্থাপন হয়

স্টাফ রিপোর্টার : বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশে প্রয়োজনের মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়। মূলত কিডনিদাতার স্বল্পতার কারণে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের হার খুবই কম। এই বাধা দূর করতে ব্যাপক জনসচেতনতা দরকার।
গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কিডনি প্রতিস্থাপন-বিষয়ক এক সাংবাদিক সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় তারা এ কথা বলেন। বিএসএমএমইউ’র ৫০০ সফল কিডনির প্রতিস্থাপনের মাইলফলক উদযাপন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিএসএমএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি মোহাম্মদ সারফুদ্দিন, অধ্যাপক শহীদুল্লাহ শিকদার, প্রক্টর হাবিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কিডনি বিকল রোগীদের নতুন জীবন ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে সাবেক আইপিজিএমআর এ প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হয়। তবে ১৯৮৮ সাল থেকে বিএসএমএমইউতে নিয়মিত কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। গত ২৯ বছরের হিসেবে দেখা গেছে, প্রতিবছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে মাত্র ১৭টি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।
বিএসএমএমইউ’র একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিএসএমএমইউতে মোট ৫০৪ জনের দেহে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ৩০টিরও বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকেরা বলেন, এই সংখ্যা খুব কম। এ সময় তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট আইন পরিবর্তনসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপর জোর দেন।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, দেশে কিডনিদাতার সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে তাই মৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিডনি সংগ্রহে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। এ ক্ষেত্রে পরিবারের দাদা-দাদি, নানা-নানি, নাতি-নাতনি ও কাজিনদেরকে ডোনার পোল-এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলেও মত দেন তারা।
বক্তারা জানান, দেশে ১৮ মিলিয়ন লোক কিডনি রোগী রয়েছে। প্রতি বছর ৩৫ হাজার কিডনি স্থায়ীভাবে অকার্যকর হয়। ডায়বেটিসজনিত কারণে শতকরা ৪১ ভাগ, উচ্চ রক্তচাপজনিত ৩৩ ভাগ, সংক্রমণজনিত ২৫ ভাগ ও অন্যান্য কারণে শতকরা ১ ভাগ কিডনি রোগে আক্রান্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ