বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সভাপতি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সম্পাদক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ খান

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, অধ্যাপক হারুন অর রশিদ খান

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ২০১৭ গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় রাজধানীর একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নতুন সেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ খান। সম্মেলনে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি নির্বাচিত হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। সম্মেলনে সারা দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল, জেলা ও মহানগরীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেলিগেট অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে ৭ দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়। গৃহিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, (এক) শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খানসহ সারা দেশে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারকৃত ফেডারেশনের সকল নেতা ও কর্মীদের মুক্তির জোর দাবি। (দুই) শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনকে প্রতিহত করার জন্য সরকার ও মালিকপক্ষ পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মিল-কারখানা বন্ধ ঘোষণা করছে। এতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মচারীরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সম্মেলন বন্ধকৃত সকল মিল-কারখানা অনতিবিলম্বে চালু করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়ার জোর দাবি জানানো হয়। (তিন) গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনি¤œ মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও অধিকাংশ গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকদের সর্বনি¤œ মজুরী না দিয়ে বিভিন্নভাবে শ্রমিকদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এমনকি দাবি আদায়ের আন্দোলনকে দমনের নামে হয়রানি ও গ্রেফতার করে অন্যায়ভাবে শ্রমিকদেরকে চাকরিচ্যুত করছে। সম্মেলন মনে করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনি¤œ মজুরি ১০ হাজার টাকা সর্বত্র চালু করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নায্য দাবি মেনে নেয়া হোক। (চার) এই সম্মেলন লক্ষ্য করছে যে,  দেশে আইন-শৃংখলা মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। আইন-শৃংখলায় নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনী থাকলেও দিনে দুপুরে মানুষ খুন হচ্ছে,  গুম হচ্ছে,  ক্রস ফায়ারের নামে অমানবিক হত্যাযজ্ঞ চলছে। শিশুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে,  কোন কোন ক্ষেত্রে আইন শৃংখলায় নিয়োজিত বাহিনীর উপরও সরকার দলীয় কর্মীরা প্রভাব বিস্তার করে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে। আইন সকলের জন্য সমান তাই সম্মেলন মনে করে সর্বত্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জনগণের জানমালকে নিরাপদ করা হোক। (পাঁচ) পাট,  পাটশিল্প বাঁচাতে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার্থে কাচা পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাট ও পাটজাতীয় দ্রব্যের ব্যবসায়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম দূর করে এবং পাট ও পাট জাতীয় দ্রব্য রফতানি বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাট শিল্পকে এবং পাট কলসমূহের উন্নয়নে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এ সম্মেলন সরকারের প্রতি জোর দাবি করছে। (ছয়) সরকারি, বে-সরকারি ও গার্মেন্টসসহ সকল শিল্প,  কল-কারখানায় শ্রম আইন অনুযায়ী মহিলাদের প্রসূতিকালীন ছুটি ও ভাতা প্রদানসহ নারী শ্রমিকদের সন্তানের জন্য শিশু যত্মাগার স্থাপনের দাবি। (সাত) সকল রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে অনতিবিলম্বে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের জোর দাবি জানিয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ