বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পাঁচটি বিলবোর্ড স্থাপন না করেই চার লাখ টাকার বিল উত্তোলন!

খুলনা অফিস : নিজস্ব ভবন না থাকায় ছয় মাস ধরে স্কুল হেলথ ক্লিনিকের গেস্ট রুমের দু’টি সীট নিয়ে থাকছেন খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আব্দুর রাজ্জাক। নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের আওতায় পাঁচটি স্থানে পাঁচটি বিলবোর্ড লাগানোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও এখনও পর্যন্ত স্থাপন করা হয়নি কোন বিলবোর্ড। এভাবেই চলছে খুলনার স্বাস্থ্য বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর আগস্ট মাস থেকে খুলনার বর্তমান সিভিল সার্জন অবস্থান করছেন নগরীর শামসুর রহমান রোডস্থ স্কুল হেলথ ক্লিনিকে। সেখানে দু’টি সীট নিয়ে তিনি অবস্থান করলেও এ পর্যন্ত কোন ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি বলে একটি সূত্র জানায়। তবে ইনচার্জ ডা. অর্পনা জানান, সিভিল সার্জন ও পরিচালক (স্বাস্থ্য) দু’টি কক্ষে থাকলেও তারা যথারীতি ভাড়া পরিশোধ করেন। যদিও উক্ত আদায়কৃত ভাড়া কোথায় জমা দেয়া হয় অথবা ভাড়া আদায়ের কোন রশিদও দেখাতে পারেননি ডা. অর্পনা। প্রতিদিন চারশ’ টাকা করে ভাড়া দেয়ার নিয়ম রয়েছে বলেও জানান স্কুল হেলথ ক্লিনিকের ইনচার্জ।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এ.এস.এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সিভিল সার্জন, খুলনার অফিসের জন্য নিজস্ব কোন ভবন নেই। সিভিল সার্জন অফিস নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের নিজস্ব জমিতে স্থান নির্বাচনসহ নকশা তৈরি করা আছে। বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে কার্য পরিচালনা করা হয়। কাজের সুষ্ঠু সমন্বয় ও গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য একটি নিজস্ব আধুনিক অফিস ভবন তৈরি করা একান্ত প্রয়োজন। নিজস্ব ভবন না থাকায় তাকে বাধ্য হয়েই স্কুল হেলথ ক্লিনিকে থাকতে হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অপরদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সম্প্রতি দেশের আটটি জেলায় বিলবোর্ড স্থাপনের জন্য সর্বমোট ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের লাইন ডাইরেক্টর ডা. মো. ফারুক আহমেদ ভূইয়া স্বাক্ষরিত বরাদ্দপত্রে দেখা যায়, বিভাগীয় শহর খুলনা ও বরিশালসহ সাতটি জেলায় চার লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হলেও শুধুমাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজ জেলা সিরাজগঞ্জে দেয়া হয় ছয় লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হলেও খুলনায় এখন পর্যন্ত কোন বিলবোর্ড লাগানো হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, মেসার্স নগর গড়ি নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে পাঁচটি বিলবোর্ডের নামে পুরো টাকাটাই উত্তোলন করে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় বাজার দর অনুযায়ী ১০ ফুট বাই ছয় ফুটের ওই বিলবোর্ড তৈরিতে সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার টাকা খরচ পড়লেও ৮০ হাজার টাকা খরচ দেখিয়ে পুরো টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তবে সিভিল সার্জন বলছেন, বিলবোর্ড তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়রা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় বিলবোর্ড স্থাপন করে শুধুমাত্র প্যানা লাগানো বাকী রয়েছে। ইতোমধ্যেই ঢাকা থেকে প্যানার ডিজাইন পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথাসময়ে যথাস্থানে তা স্থাপন করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ