মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে নিম্ন আদালত থাকা দরকার -প্রধান বিচারপতি

স্টাফ রিপোর্টার : আসামী ছিনতাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে নিম্ন আদালত রাখা দরকার বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। গতকাল সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি একথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, নিম্ন আদালতের ফটকের সামনে থেকে প্রায় সময়ই আসামী ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আবার পুরান ঢাকার যে অবস্থা সেখান থেকে আসামী স্থানান্তর করা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে যদি নিম্ন আদালত স্থানান্তর করা যায় তবে তা আদালত ও কারা উভয় কর্তৃপক্ষের জন্য মঙ্গলজনক হবে। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি কাশিমপুর কারাগার থেকে আনা-নেয়া করতে আসামী ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এজন্য দুর্ধর্ষ আসামীদের আদালতে আনা খুই ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য কারাগারের পাশে নিম্ন আদালত থাকলে এ ঝুঁকিটা থাকবে না।
তিনি বলেন, ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এতে সম্মত হয়েছেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না এরপরও নিম্ন আদালতে একটি নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে।
বিডিআর বিদ্রোহ মামলা খুব দ্রুত নিষ্পতির আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহ মামলা খুব দ্রুতই নিষ্পত্তি করা হবে। আমি বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এসকে সিনহা বলেন, আমার (প্রধান বিচারপতির) ব্যক্তিগত কোনো ফান্ড নেই। তারপরও আমার পক্ষ থেকে আসামীদের এক লাখ টাকার বই দেয়া হয়েছে। বইগুলো জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কাজী নজরুল ইসলামের উপর লেখা। এছাড়াও বাইরের কিছু বই রয়েছে তা বাংলায় অনুবাদ করা। আইজি প্রিজনকে কারাগারে একটি উন্নত লাইব্রেরি করে কয়েদিদের বইগুলো পড়তে দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি সাংবাদিকদের বলেন, আমি কনডেম সেলগুলো পরিদর্শন করেছি। অন্য সেলগুলোতেও গিয়েছি। এত ভাল অবস্থা, আমাকে কোনো কয়েদি, বিচারাধীন কোনো মামলার আসামী কোনো ধরনের অভিযোগ করেনি। বরং একজন বিচারাধীন মামলার কয়েদি নিজেই প্রশংসা করেছে। এখানে সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত ভাল।
এই পরিদর্শনকালে প্রধান বিচারপতির কাছে কারাগারের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন কারা কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে কারাগারের বাইরে সীমানা প্রাচীর না থাকা, কারাগারে গ্যাস সংযোগ না থাকা, বন্দীদেরকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া ও ফিরিয়ে আনার পথে ঝুঁকিসহ নিরাপত্তা ও অবকাঠামো সংক্রান্ত নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, জেলের নির্মাণ কাজ এখনো সম্প্রসারণ হচ্ছে। এটা হলে আরো সুন্দর হবে। এটা একটা আধুনিক জেল হিসেবে বলা যায়। কয়েদিদের কোনো দাবি ছিল কি না- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাদের কোনো দাবি ছিল না। তারা প্রশংসা করেছে।
কারাগার পরিদর্শনের সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ছিলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দীন, ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সাঈদ দিলজার হোসেন, স্পেশাল অফিসার হোসনে আরা, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফারজানা ইয়াসমিন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির। এই পরিদর্শনে আইজি প্রিজনসের প্রসংশা করেন প্রধান বিচারপতি। বলেন, তিনি একজন মেধাসম্পন্ন ভাল অফিসার।
নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ধারণক্ষমতা পেরিয়ে যাওয়ার পর সরকার কেরানীগঞ্জে এটি নির্মাণ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ১০ এপ্রিলে এর উদ্বোধন করেন। গত বছর ২৯ জুলাই পুরাতন ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের সব বন্দী এখানে স্থানান্তর হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারও পরিদর্শন করেছিলেন প্রধান বিচারপ্রতি। প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে চট্টগ্রাম, বান্দরবান, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার কারাগার পরিদর্শন করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ