বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কেশবপুরে অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : কেশবপুর শহরের দো‘তলা বাড়ি ও স্ত্রীর পরকীয়াই কাল হলো অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ইদ্রিস আলীর (৪৮)। গত শনিবার রাতে শয়ন কক্ষে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে শহরের সাবদিয়া এলাকার বাসা থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছে।
থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গৃধরনগর গ্রামের নিজাম সরদারের ছেলে ইদ্রিস আলী সেনাবাহিনীতে সেনা সদস্য হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালে পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার জামলা গ্রামের আমানত আলীর মেয়ে মনোয়ারা খাতুনের সাথে তার বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের ঘরে ৩টি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। ইদ্রিস আলী চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার আগে কেশবপুর শহরের সাবদিয়া এলাকার সরকারি কবরস্থানের পাশে জমি কিনে দো‘তলা বাড়ি করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে মনোয়ারা বেগম আলতাপোল গ্রামের জনৈক সোহাগ নামে তার এক নিকটাত্মীয়র সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মনোয়ারা বেগমের সাথে ইদ্রিস আলী ও তার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। যে কারণে মনোয়ারা বেগম তার বাসায় ইদ্রিস আলীর পরিবারের কাউকে ঢুকতে দিতেন না। এদিকে, গত ৪ বছর আগে ইদ্রিস আলী চাকরি থেকে অবসরে গেলে তার নামিয় কেশবপুর শহরের ওই জমি স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন তার নামে লিখে দেয়ার জন্যে ইদ্রিস আলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। কিন্তু ইদ্রিস আলী তার জমি মেয়েদের নামে লিখে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে মনোয়ারা বেগম প্রতারণা করে তার নামে লিখে নেয়। এরপর থেকে মনোয়ারা বেগম স্বামী ইদ্রিস আলীকে ওই বাসা থেকে তাড়াতে ও মেরে ফেলতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। যার কারণে ২০১৪ সালের ২৭ জুন ইদ্রিস আলী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নং-১০৩৬। গত রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহত ইদ্রিস আলীর নাকে ও নাকের উপরে জমাট বাঁধা রক্ত ছিল। বাম বাহুতে আঘাতের চি‎হ্ন রয়েছে। এ সময় তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, ঘুমের ঘরে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। কখন মারা গেছে তা আমি জানি না। মৃত্যুর সময় আমি ছাড়া তার পাশে আর কেউ ছিল না। এখন তার পরিবারের লোকজন আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। 
নিহতের বোন রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে মেরে ফেলার জন্যে সে ভাতের সাথে অনেকাবার বিষাক্ত খাবার খাওয়াইয়া দিয়েছে। আমার পরিবারের লোকজন এসবের প্রতিবাদ করতো বলে ওই বাড়িতে আমাদের কাউকে ঢুকতে দিত না। মৃত্যুর সংবাদ শুনে এখানে এসে ওই বাসার ভাড়াটেদের কাছে জানতে পারলাম তার ভাইকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নিহতের ছুরতহাল প্রস্তুতকারী থানার এসআই রিফায়েতুল ইসলাম জানান, তার মৃত্যু রহস্যজনক হওয়ায় লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ