বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মালয়েশিয়া থেকে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা: কেশবপুর উপজেলার চাঁদড়া গ্রামের আব্দুল গফুর নামের এক প্রবাসি প্রতারণা করে মালয়েশিয়া থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কুদ্দুস গাজী যশোর পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের মৃত মোবারক গাজীর ছেলে আব্দুল গফুর গত ১৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সুদূর মালয়েশিয়ায় যায়। সে দীর্ঘদিন বিদেশ থাকার সুবাদে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে কেশবপুরের চাঁদড়া, ত্রিমোহিনী, দেয়াড়া, রাজগঞ্জ, বাঁকড়াসহ বিভিন্ন এলাকার লোকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে গিয়ে তার কাছে রাখতো।
এ সময় সে এ সমস্ত লোকদের জিম্মি করে তাদের পরিবারের লোকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ।
এভাবে আব্দুল গফুর চাঁদড়া গ্রামের মতলেব বিশ্বাসের ছেলে আসাদুজ্জামানের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, আবুল সরদারের ছেলে আয়ুব আলীর কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা, কুদ্দুস গাজীর ছেলে মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, আব্দুল জলিলের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা, রাজগঞ্জের শাম্বুর কাছ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, বাকড়ার শহিদুলের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
গত ৬/৭ মাস আগে আব্দুল গফুর বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে আসলে এ সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন তার কাছে পাওনা টাকা ফেরৎ চাইলে তাদেরকে ভয়ভীতিসহ মিথ্যা মামলায় ঢোকানোর হুমকি দিচ্ছে।
চাঁদড়ার গ্রাম্য মাতুব্বার তোফাজ্জেল হোসেন জানান, শুনেছি আব্দুল গফুর বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে এবং গোপনে ফেরতও দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে সে চাঁদড়ার নাছেরকে ১ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ২০ হাজার টাকা, হাজরাকাটির লুৎফরকে ২০ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে দু’দফা সালিশ বসেছে। কিন্তু সে হাজির হয়নি। সে বাড়ি ফিরেই ৪ বিঘা জমি ও ৫ তলা ফাউন্ডেশন বাড়ি করেছে। কিন্তু পাওনাদারদের টাকা ফেরৎ দিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে আব্দুল গফুর সাংবাদিকদের জানান, আমার কাছে কেউ টাকা পাবে না। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সহোদর রড় ভাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, ওদের ভাই ভাই বিরোধ। আমি ঝামেলাই যেতে চাই না। যদি কেউ টাকা পেয়েই থাকে তবে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ