শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গভীর নলকূপ নেই পাহাড়পুর গ্রামে

খুলনা অফিস : শুধু ভোটের সময় কতিপয় নেতা আমাদের এ গ্রামে এসে খাওয়ার পানি ও ইটের রাস্তার করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চায়। কিন্তু ভোট ফুরালে আর কেউ আমাদের দিকে ফিরেও তাকায় না। এ ভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন পাহাড়পুর গ্রামের নারায়ণ মন্ডল।

কারণ; খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে সুপেয় পানির উত্তেলনেকানো গভীয় নলকূপ নেই। দেশের প্রায় সব গ্রামেই সুপেয় পানির জন্য অনেক রকম ব্যবস্থা থাকলেও পাহাড়পুরে তার কোনো ছায়া না পড়ায় বহু বছর ধরে গ্রামের মহিলারা এক কিলোমিটার দূরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাচীর ঘেরা এক মাদরাসা থেকে খাওয়ার পানি আনতে বাধ্য হচ্ছেন।

গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশনের দৌলতপুর ওয়ার্ডের পশ্চিম সীমান্তে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের উন্নয়ন বঞ্চিত ছোট্ট গ্রাম পাহাড়পুরে ৫ শতাধিক মানুষের বাস। শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত হলেও অধিকাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ওই জনগোষ্ঠীর সুপেয় খাওয়ার পানির জন্য কোনো গভীর নলকূপ নেই। এই গ্রামের মা-বানেরা অনেক কষ্ট করে দৌলতপুর-শাহপুর সড়কের পাশে উঁচু প্রাচীর ঘেরা এক মাদরাসার ভেতর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাওয়ার পানি আনতে বাধ্য হন। তাছাড়া বর্ষার সময় গ্রামের কাঁচা রাস্তা ধরে পানি আনার কষ্ট তা অবর্ণনীয়। জনপ্রতিনিধি-প্রশাসন-এনজিও সকলের চোখের সামনেই অনেক বছর ধরে এই দুরবস্থা চলতে থাকলেও পাহাড়পুরবাসীর ভাগ্যে একটাও গভীর নলকূপ জোটেনি। ২০১৬’র ইউপি নির্বাচনের কয়েকদিন আগে একটি নলকূপের জন্য পাইপসহ কিছু মালামাল ওই গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ভোটের প্রায় এক বছর পার হলেও অজ্ঞাত কারণে নলকূপটির মালামাল পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই পড়ে রয়েছে।

গ্রামের দিনেশ মিস্ত্রি বলেন, আমরা ৩-৪ বছর আগে গুটুদিয়ার এক নেতার কাছে টিউবয়েলের জন্নি ৫ হাজার টাকাও দিয়েছিলাম। কিন্তু টিউবয়েল তো দূরের কথা টাকাও ফেরত দেয়নি। 

গৃহিণী গীতা মন্ডল বলেন, মাদরাসার মধ্য থেকে দিনের মধ্যে সকাল ৯টা থেকে ১২টা ও দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রামের মেয়েদের অনেক কষ্ট করে পানি আনতে হয়। তাছাড়া ঝড়-বৃষ্টির দিনের কথা আর কী বলবো।  হরিদাসী মন্ডল বলেন, টিউবয়েলের পাইপ দেখাইয়ে আমাগে ভোট নিলো। কিন্তু আজ এক বছরেও তা বসানে হলো না।  গ্রামের যুবক লিটন মন্ডল বলেন, গত ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু নেতাদের মতো অফিসারও আমাদের আবেদনে কোনো সাড়া দিলো না।  ওই এলাকার ইউপি মেম্বর নিউটন মন্ডল বলেন, পাহাড়পুরে টিউবয়েল না থাকায় মা-বানদের যে কী কষ্ট তা বলে বোঝানো যাবে না।  নবাগত ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেক হাসান বলেন, আমি ওই দরখাস্তের বিষয়টি এখনও জানিনা। তবে যত দ্রুত সম্ভব ওই গ্রামে টিউবয়েল বসাবো।  উপজেলা চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর বলেন, এবার টিউবয়েল আসলেই প্রথমে পাহাড়পুরে টিউবয়েল বসানোর ব্যবস্থা করবো। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ