শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

২০ দলের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ

স্টাফ রিপোর্টার : আজ সোমবার ২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক। আজ বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি মহাসচিব ও জোটের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।

নতুন বছরে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের এটিই প্রথম বৈঠক। বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে সার্চ কমিটি নিয়ে জোটের অবস্থান কি হবে তা নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে সার্চ কমিটি কর্তৃক রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নির্বাচন কমিশন গঠনে যে নাম চাওয়া হয়েছে সে বিষয়েও আলাপ হবে। জোটের শরীকদের মতামত নেয়া হবে নাম দেয়ার বিষয়ে। 

জানা গেছে, জোটের কেউ চাইছেন নাম না দিতে। তাদের বক্তব্য হলো, সার্চ কমিটিতে বিএনপিসহ জোটের অন্য শরীকরা রাষ্ট্রপতির সাথে অনুষ্ঠিত সংলাপে একটি রূপরেখাসহ নাম দিয়েছিল। কিন্তু সেটা আমলেই নেয়া হয়নি। বরং সরকার দলীয়দের দিয়েই সার্চ কমিটি করা হয়েছে। এদের কাছে নিরপেক্ষ কারো নাম দিয়ে লাভ হবে না। তারা ক্ষমতাসীনদের দেয়া তালিকার বাইরে যেতে পারবে না। 

তবে আরেক পক্ষও বলছে, বিএনপি বা ২০ দলীয় জোট যেসব নাম দিবে সেখান থেকে কাউকেই রাখা হবেনা। তারপরও সরকার যেন নাম না দেয়ার সুবিধাটা নিতে না পারে সেজন্য সার্চ কমিটির আহবানে সাড়া দেয়া উচিত। সব মিলিয়ে সার্চ কমিটির নাম দেয়ার বিষয়টিই আজকে জোটের বৈঠকে প্রাধান্য পাবে। জানা গেছে, জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার উপরই সিদ্ধান্ত নেয়ার চূড়ান্ত ভার দেয়া হবে। তিনি জোটের শীর্ষ নেতাদের সাথে আলোচনা করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। 

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সার্চ কমিটির কাছে নাম দিলে কোনো কাজ হবে না। সেখান থেকে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। আরেক পক্ষের মত, নাম না দিলে সরকারি দল ও নাগরিক প্রতিনিধিরা বিএনপিসহ বিরোধী জোটকে সমালোচনার সুযোগ পাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ নাম চাওয়ার বিষয়টিকে নতুন কিছু বলে মনে করছেন না। তিনি বলেন, গতবারও নাম চাওয়া হয়েছিল। আগের সার্চ কমিটি যেভাবে কাজ করেছিল, এবারের কমিটিও সেই ধারায় কাজ করছে।

দলটির নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন, নাম চাওয়ার বিষয়টি লোক দেখানো। এখন নির্বাচন কমিশন করার জন্য বিএনপি কারও নাম প্রস্তাব করলে সেটিও আমলে নেওয়া হবে না। বরং শুরুতেই তাদের বাদ দেওয়া হবে। তাই নাম প্রস্তাব করার চেয়ে বরং চুপ থাকাই ভালো। এর আগেও কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের কাছ থেকে নাম চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের ইচ্ছাতেই বর্তমান কমিশন গঠিত হয়েছিল বলে বিএনপি মনে করে। এবারও আওয়ামী লীগের ইচ্ছাতেই কমিশন গঠিত হবে বলে তারা মনে করেন।

বিএনপির নেতারা মনে করছেন, অনুসন্ধান কমিটির আহ্বানে সাড়া না দিলেও সমস্যা। তাতে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিএনপি যদি কারও নাম প্রস্তাব না করে, তাহলে পরবর্তী সময়ে কমিশন গঠন করা হলে বিএনপি কথা বলার সুযোগ পাবে না। উল্টো সরকার বিএনপিকে দোষারোপ করার সুযোগ পাবে। তাই সরকারকে সে সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না। তবে নাম প্রস্তাবের পক্ষের নেতারাও মনে করেন, বিএনপি কারও নাম প্রস্তাব করলে তা মানা হবে না।

নাম দেওয়ার পক্ষে নেতাদের আরেকটি যুক্তি হলো বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাতে সব দল নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবে বলে বলা হয়েছিল। এখন বিএনপি নাম প্রস্তাব না করলে নিজেদের প্রস্তাবের স্ববিরোধিতা হয়ে যায়। অবশ্য সে প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এখন যে প্রক্রিয়ায় নাম চাওয়া হয়েছে, তা নিয়েও বিএনপির কোনো কোনো নেতার আপত্তি আছে। তারা বলছেন, নাম দেয়ার আহ্বানটি শুধুই আইওয়াশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ