শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে দুই সাংবাদিককে পুলিশের বেদম পিটুনিকে ধাক্কাধাক্কি বলার দুই দিন পর তিনি এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতন একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। আমরা সত্যিই এই ঘটনার জন্য দুঃখিত। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার কে এল জুবলি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দেড়শ বছর পূর্তি উৎসবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আধাবেলা হরতাল চলাকালে শাহবাগ থানায় বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের ক্যামেরাপারসন আবদুল আলিম পুলিশের হামলার শিকার হন। জাতীয় কমিটির দুই কর্মীকে আটক করে থানায় নেয়ার ছবি ধারণ করতে গেলে তার ওপর চড়াও হন পুলিশ সদস্যরা। তাকে টেনে ফেলে দিয়ে পিঠ ও ঘাড়ে লাথি মারা হয় একের পর এক। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরও পুলিশ নিবৃত্ত হয়নি।

এই সংবাদকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হক এটিএন নিউজের রিপোর্টার ঈশান দিদার। তার পা ভেঙে যায়। এই ঘটনার পর সাংবাদিকরা শাহবাগ থানায় গিয়ে বিচার দাবি করেন। আর শাহবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক এরশাদ মণ্ডলসহ মোট ১২ জনকে চিহ্নিত করেন হামলার শিকার দুই সাংবাদিক। এদের মধ্যে এরশাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর ঘটনার তদন্তে কমিটি করেছে পুলিশ।

ঘটনার পরদিন মৌলভীবাজারে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। মন্ত্রী সেখানে বলেন, পুলিশ কখনো সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন করে না। মাঝেমধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়, শাহবাগেও তাই হয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতনের পাশাপাশি মন্ত্রীর এমন বক্তব্য ক্ষুব্ধ করে তোলে সাংবাদিকদের। শনিবার রাজধানীর শাহবাগে এক মানববন্ধনে এই ঘটনার বিচারের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানান সাংবাদিক নেতারা। একই দিন বিকালে টাঙ্গাইলে এক অনুষ্ঠানে আগের বক্তব্য থেকে সরে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, গতকাল আমি পুরোপুরি অবহিত ছিলাম না, এখন আমি ভালোভাবে জেনেছি। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এসেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর পরদিন মন্ত্রী আরেক ধাপ এগিয়ে সাংবাদিক নির্যাতনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, আপনারা জানেন ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতকে ক্লোজড করা হয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূয়সী প্রশংসাও করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের পুলিশ জনগণের পুলিশ। দেশের যে কোন ঘটনায় জঙ্গী বিরোধী অভিযানসহ বিশেষ ঘটনায় পুলিশকে আমরা কাছে পেয়েছি। তবে শেখ হাসিনার সরকার যে কোন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে কে এল জুবলি স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্মৃতিচারণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘আমি যখন ৬০ এর দশকে স্কুলের ছাত্র তখন ঢাকায় বেশ কয়েকটি স্কুল ছিল। যেমন ভিকারুন নিছা নূন স্কুল, নবকুমারী স্কুল, তেজগাঁও স্কুল। এরমধ্যে জুবলি স্কুল সব কিছুতেই বেশ এগিয়ে থাকত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার ইব্রাহিম খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কে এল জুবলি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সচিব এস এন রায় সমর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ