শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাত খুন মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করতে নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের দুই মামলায় ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা। পেপারবুকে মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, জবানবন্দী, বিচারিক আদালতের রায় পর্যায়ক্রমে সাজানো থাকে। পেপারবুক প্রস্তুত হলেই আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয়ে থাকে হাইকোর্টে।

হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) মো. সাব্বির ফয়েজ জানিয়েছেন, আপিল শুনানির জন্য মামলার পেপারবুক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। মামলার রায় ও নথি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসার পরপরই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে তা নথিভুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত ২২ জানুয়ারি আলোচিত সাত খুনের বিচারিক আদালতের রায়ের নথি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। এক সপ্তাহ পর প্রধান বিচারপতি আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ দিলেন।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন আলোচিত সাত খুন মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ জন হলেন-নূর হোসেন, চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, চাকরিচ্যুত মেজর মো. আরিফ হোসেন, চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানা, মো. মিজানুর রহমান দীপু, মো. মোখলেছুর রহমান, মো. মহিউদ্দিন মুন্সী, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, সিপাহি আবু তৈয়ব, সেলিম, সানাউল্লাহ সানা, শাহ জাহান, জামাল উদ্দিন, আসাদুজ্জামান নূর, পুর্ণেন্দু বালা, আরওজি আরিফ হোসেন, সৈনিক আল আমিন, তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, বেলাল হোসেন, শিহাব উদ্দিন, মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, আবুল বাশার, রহম আলী ও এমদাদুল হক।

এদের মধ্যে প্রধান আসামী নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করে র‌্যাব-১১। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ