রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাংবাদিকের লিখিত প্রশ্ন ছিঁড়ে ছুড়ে ফেলে দিলেন অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফান্ড গঠনে তেমনভাবে এগিয়ে আসছে না আন্তর্জাতিক মহল। এদিকে জলবায়ু তহবিল লুট সংক্রান্ত সাংবাদিকের লিখিত প্রশ্ন ছিঁড়ে ছুড়ে ফেলে দিলেন অর্থমন্ত্রী।

গতকাল রোববার সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে আয়োজিত জলবায়ুজনিত অভিঘাত মোকাবেলা বিষয়ে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাংলাদেশে জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর রবার্ট ডি ওয়াটকিনস। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডিএফআইডি’র টিম লিডার আলেকজান্দ্রা ম্যাকলিন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব শাহাবুদ্দিন আহমেদ। প্রকল্পপত্র উপস্থাপন করেন রনজিৎ কুমার চক্রবর্তী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যে ফান্ড পাওয়া যাচ্ছে পরিমাণে তার চেয়ে বড় ফান্ড যোগাড় করেছে বাংলাদেশ সরকার।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশ। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভূমিকা শূন্য কিন্তু এর প্রভাব অনেক বড়। 

এদিকে সাংবাদিকের লিখিত প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ছিঁড়ে ছুড়ে ফেলে দিলেন অর্থমন্ত্রী। নিয়মিত বক্তব্য দেওয়ার পর চা-বিরতির আগে এক সাংবাদিক অর্থমন্ত্রীকে একটি চিরকুট পাঠান। তা দেখে অর্থমন্ত্রী জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুতিও নেন। সাংবাদিকরা এ সময় অর্থমন্ত্রীকে ডায়াসে দাঁড়িয়ে কথা বলার অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, মঞ্চে অতিথিদের জন্য রাখা আসনে বসেই কথা বলবেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী চিরকুট পাঠানো সাংবাদিকের উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, জলবায়ুর বিভিন্ন প্রকল্পে কী হচ্ছে আপনি কি জানেন? কে বলেছে প্রকল্প বাস্তবায়নের মান খারাপ? কোথায় মান খারাপ?

সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে অর্থমন্ত্রী আবার প্রশ্ন করেন, কে প্রশ্ন করেছেন? ননসেন্স প্রশ্ন। আপনি কি জানেন কী করা হচ্ছে? প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ হচ্ছে সেরা পারফরমার। আমি চ্যালেঞ্জ করছি আপনাকে।

এ সময় চিরকুটটিকে ছিঁড়ে টুকরো করে সামনের দিকে ছুড়ে ফেলে দেন অর্থমন্ত্রী। অর্থসচিব মাহবুব আহমেদসহ কয়েকজন মিলে অর্থমন্ত্রীকে তখন মঞ্চ থেকে নামিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের কাতারে নিয়ে যান। ততক্ষণে নাশতা বিরতি শুরু হয়ে যায়।

ছিঁড়ে যাওয়া চিরকুট কুড়িয়ে দেখা যায় প্রশ্নটি হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা-সম্পর্কিত প্রকল্পগুলোতে টাকা খরচের মান খারাপ। আপনার মন্তব্য কী?

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ফসিল ফুয়েল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে আমেরিকাসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো প্রচুর কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করছে। যার ফলে জলবায়ু পরিবর্তনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি আরো মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশে ফসিল-ফুয়েল ব্যবহার হয় না, তাই জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোন ভূমিকা নেই। তবে এ পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ বিরাট হুমকির মুখে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো যোগ করেন, বাংলাদেশে গ্রিন এনার্জি, সোলার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না জলবায়ুর উপর।

রবার্ট ডি ওয়াটকিনস বলেন, বিশ্বের সব দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। একা কোনো দেশের পক্ষে এ হুমকি মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ