রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন ॥ ২ আসামী সনাক্ত সাক্ষীদের

রংপুর অফিস : রংপুরের জাপানী নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার আরও ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আসামীরা আদালতে দুই হত্যাকারীকে সনাক্ত করেন। গতকাল রোববার বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে এ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গতকাল মামলার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, অটোবাইক গ্যারেজের মালিক ও কুনিও হোশির ভাড়া বাড়ির মালিক দম্পত্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। পঞ্চম দফায় আরও ৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। এ পর্যায়ে মোট ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলো।

সাক্ষ্য গ্রহণ চলাকালে মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ৮ আসামীর মধ্যে গ্রেফতার হওয়া পাঁচ জঙ্গি মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ, ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শফিক, লিটন মিয়া ওরফে রফিক ও আবু সাঈদকে আদালতে উপস্থিত ছিল। 

রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী অ্যাডভোকেট রাথিশ চন্দ্র ভৌমিক জানান, জাপানী নাগরিক হত্যা মামলার ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল যাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন, কুনিও হোশি যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সেই বাসার মলিক দম্পত্তি জাকারিয়া বালা ও আয়শা জাকারিয়া, যে গ্যরেজে খুনি দুই জঙ্গি তাদের ব্যবহৃত অটোবাইক চার্জ দিত তার মালিক আব্দুল জলিল, তালাচাবি মেকার আব্দুল জলিল, ঘটনাস্থলের আলামতের জব্দ তালিকার সাক্ষী শফিকুল ইসলাম, হাসপাতালের মর্গে জব্দ তালিকার সাক্ষী সোহেল আজাদ, ফারুক ইসলাম ও সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু তালেব। 

মামলার সাক্ষীতে সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আবু তালেব আদালতকে জানান, যারা তার আদালতে এ মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে তাদের মধ্যে রিকশা চালক আব্দুল মোন্নাফ জনায় ঘটনার দিন সে তার রিকশায় কুনিও হোশিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় ২ যুবক তাদের রিকশার গতি রোধ করে। পরে তারা কুনিও হোশিকে গুলী করে একটি মোটরসাইকেলে ৩জন মিলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা অপর সাক্ষী মায়দুল ইসলাম মুরাদ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে, তিনি বলেন গুলীর শব্দ শুনে এসে কুনিও হোশিকে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় এবং ৩ যুবককে একটি মোটরসাইকেলে পালিয়ে যেতে দেখেন। 

আসামীরা যে অটোবাইকটিতে চলাফেরা করত সেই অটোবাইক যে গ্যারেজে চার্জ দিত সেই গ্যরেজের মালিক আব্দুল জলিল আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামী জেএমবি’র(জামায়াঅ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) এর কিলিং মিশনের সক্রিয় সদস্য লিটন মিয়া ওরফে রফিক ও ইছাহাক আলীকে সনাক্ত করেন। তিনি আদালতকে জানান, আসামিরা তার গ্যারেজে নিয়মিত তাদের ব্যবহৃত অটোবাইকটি চার্জ দিতে নিয়ে আসত।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকাল ৮ টার দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে জাপানি নাগরিক হোসে কোমিও দুর্বৃত্তের গুলীতে নিহত হন। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়। প্রায় নয় মাস তদন্তের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী ২০১৬ সালের ৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে আটজনকে আসামী করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচ আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকি তিন আসামীর মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব পলাতক রয়েছেন। সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল ওরফে চঞ্চল ওরফে সবুজ ওরফে রবি সম্প্রতি ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়ি বাঁধে ও নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল গত বছরের ২ আগস্ট রাজশাহীর মতিহার থানার আশরাফের মোড় এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তারা প্রত্যেকে নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের ( জেএমবি) সদস্য।

সাক্ষ্য গ্রহণকালে আসামী পক্ষের কৌসুলী ছিলেন অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন ও আবুল হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ