রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভারতের শুল্কায়নের জটিলতা রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রধান বাধা

স্টাফ রিপোর্টার : রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে এখন প্রধান বাধা ভারতের শুল্ক জটিলতা। আগামী অর্থ বছরে ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি বাণিজ্যের টার্গেট নির্ধারণ করা হলেও এই শুল্ক জটিলতা দূর না হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ভারতের সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমস্যার সমাধান বের করা হচ্ছে। 

তবে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ স্পষ্টই জানিয়েছেন, শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। সম্প্রতি এই ইস্যুতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানি অনেকটা কমেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই অবস্থার উত্তরণের জন্য দুই দেশের মধ্যে জরুরি একটি বৈঠক হওয়া দরকার বলে মনে করেন মন্ত্রী।

বাণিজ্য মন্ত্রণায়লের একটি সূত্র জানায়, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ২৫টি পণ্য ৬৮টি দেশে রপ্তানি করে যে বাংলাদেশ আয় করতো মাত্র ৩৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে ১৯৬ টি দেশে ৭২৯ টি পণ্য রপ্তানি করে আয় হচ্ছে ৩৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগামী অর্থ বছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সূত্র আরো জানায়, দেশের ৫০ বছর পূর্তিতে ২০২১ সালে রপ্তানি লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আসবে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। বাংলাদেশ শুধু তৈরী পোশাকের উপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। সরকার ৭ম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনা মোতাবেক রপ্তানি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারে পণ্য রপ্তানিতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। রপ্তানি দিনদিন বাড়ছে। ভারত বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র। ভারত অনেক বড় রাষ্ট্র, বাজারও অনেক বড়। ভারত বাংলাদেশকে তামাক ও মদ ছাড়া সকল পণ্য ডিউটি ও কোটা ফ্রি রপ্তানির সুবিধা প্রদান করেছে। কিন্তু শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাংলাদেশ আশানুরূপ রপ্তানি করতে পারেছে না।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রতিবেশি বড় রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনেক। পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব। উভয় দেশ আলোচনায় বসলে চলমান সমস্যাগুলো নিরসন করা সম্ভব। বাংলাদেশ আশা করছে আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্য জটিলতাগুলো দূর করা সম্ভব হবে। এজন্য ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ