শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়ন বর্ণনা করলেন রোহিঙ্গারা

স্টাফ রিপোর্টার : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন আনান কমিশনের সদস্যরা। এ সময় তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনলেন।

গতকাল রোববার সকালে কমিশনের তিন সদস্য মিয়ানমারের নাগরিক উইন ম্রা ও আই লুইন এবং লেবাননের নাগরিক ঘাশান সালামে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছান। প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বাকি বিল্লাহসহ বিভিন্ন সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

কক্সবাজারে পৌঁছে কমিশনের সদস্যরা বেলা ১১টার দিকে উখিয়ার বালুখালী জঙ্গলে নতুন করে গড়ে ওঠা একটি রোহিঙ্গা শিবিরে যান। এই শিবিরে কয়েক হাজার রোহিঙ্গার বসতি শুরু হয়েছে জানুয়ারির শুরু থেকে। এই শিবিরে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থানকালে ১৯ জন রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন আনান কমিশন। তবে কমিশনের সদস্যরা এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনান কমিশনের সদস্যদের কাছে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন সেখান থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা গৃহবধূ নূর বেগম (২৯)। তিনি বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের গ্রামটি ঘিরে ফেলে এবং গুলীবর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে থাকে। এতে তাঁর বাড়িসহ ২০-২৫টি বাড়ি পুড়ে যায়। গুলীতে নিহত হন অনেকে। তাঁর আত্মীয়স্বজনদের অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।

রাখাইন রাজ্যের মরিচ্যা বিলের গুলীবিদ্ধ মোসলেহ উদ্দিন (২৫) বলেন, গত ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের গ্রামে গিয়ে বাড়ির ধনসম্পদ লুট, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মেয়েদের ধর্ষণ করে। গুলীতে তিনি আহত হন। এরপর প্রাণ বাঁচাতে তিনি উখিয়ায় পালিয়ে আসেন। নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরা অন্যদের মধ্যে আছেন রাখাইন রাজ্যের নাইছাপ্রু গ্রামের নূর জাহান (৫৫) ও নূর আয়েশা (২২), শিলখালী গ্রামের ফারেজা বেগম (২০) ও ইয়াসমিন (২২), বুচিডং গ্রামের রশিদ আহমদ (৩০), খেয়ারিপাড়ার আবুল কালাম (২৮) প্রমুখ।

আনান কমিশনের সঙ্গে কথা বলা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমিশনের সদস্যরা তাঁদের কাছে নির্যাতনের কারণ, নির্যাতনের ধরন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছেন। তাঁরা কমিশনের কাছে ঘটনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।

বিকেলে কমিশনের সদস্যরা উখিয়ার বালুখালী শিবির থেকে সড়কপথে টেকনাফের লেদায় অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। সেখানেও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনের সদস্যরা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন উখিয়া ও টেকনাফে আনান কমিশনের একাধিক রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিকেলে প্রতিনিধিদল ঢাকায় ফিরে যাবে।

গত ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যের তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় ৯ পুলিশসহ ১৮ ব্যক্তি নিহত হন। এরপর ওই রাজ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। সামরিক বাহিনীর চলমান অভিযানে আড়াই শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হন। আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় আড়াই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। গৃহহীন প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে আশ্রয় নেয় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবিরে। এর আগে থেকে এসব শিবিরে অবস্থান করছিল মিয়ানমারের আরও অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ