বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

নির্বাচন কমিশন গঠনে এবারো এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে -বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশন গঠনে এবারো এক ব্যক্তির (প্রধানমন্ত্রী) ইচ্চারই প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করছে বিএনপি। গতকাল রোববার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সার্চ বা অনুসন্ধান কমিটি কতটুকু নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারবে সে বিষয়ে জনমনে তীব্র সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। অনুসন্ধান কমিটির আগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, নির্বাচন কমিশন গঠনে এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে এবং অনুসন্ধান কমিটির বাটন ছিল প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না।

রিজভী বলেন, অতীতে নির্বাচন কমিশন নিয়ে যে সংলাপ হয়েছে তার ফলাফল ছিল শূন্য। দেশবাসী দেখেছে, সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার সময় সংসদীয় কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ খ্যাতিমান আইনজীবীদের মতামত গ্রহণ করা হয়েছিল, সেসময় আওয়ামী লীগের নেতা, সংসদ সদস্যসহ সকলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিপক্ষে মতামত দিয়েছিলেন। কিন্তু শুধুমাত্র এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। একইভাবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র ঐ এক ব্যক্তির ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছিল। তার দাবি, এবারও একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের পরও একতরফাভাবে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনে যে এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে না সেটির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়ার কোন অবকাশ নেই।

বিএনপির এই নেতা বলেন, যেভাবে সরকারের প্রভাবিত ও আওয়ামী মনোভাবাপন্ন লোকদের দিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে তাদের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন অসম্ভব। এই অনুসন্ধান কমিটি আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর ছায়াসঙ্গী, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের বর্ধিত প্রকাশ।

চট্টগ্রামে আইইবি’র অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-যারা রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে তাদের মানুষের জন্য কোন দুঃখ নাই। তাদের রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের সঙ্গে দেখা করা উচিত। তাদের জেনে নেয়া উচিত যে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রয়েল বেঙ্গল টাইগারদের কোন সমস্যা হচ্ছে কী না। আরেক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন-যারা রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা করে তারা রাবিশ।

এর জবাবে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রীরা যেভাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী ও পরিবেশবাদীদের সমালোচনা ও গালিগালাজ করছেন তাতে তাদের এই বক্তব্য বিশ্বের স্বৈরশাসকদের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। প্রধানমন্ত্রী যখন রাশিয়াতে বাঘ সম্মেলনে গিয়েছিলেন তখন কী তিনি দুনিয়ার তাবৎ বাঘকে নির্মূল করার সিদ্ধান্ত নিতেই গিয়েছিলেন, যে সম্মেলনে মাঝারি ধরনের একজন মন্ত্রী গেলেই চলতো সেখানে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত হয়েছিলেন। মানুষ ও প্রকৃতি পরস্পর নির্ভরশীল, প্রকৃতি ধ্বংস হলে মানুষও ধ্বংস হয়ে যাবে। আসলে সত্য প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে গেলেই তিনি সেটি মানতে চান না। 

তিনি বলেন, শুধুমাত্র গণতন্ত্রে বিরোধী দলের অধিকার, বাকস্বাধীনতা, নির্বাচন, ভোট সবকিছুই বাতিল করা হয়েছে, কারণ এগুলো প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থাকাকে অনিশ্চিত করে। তিনি শুধু নিজের বাকস্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেন। জ্ঞান-বিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব, অর্থনীতির মূল সূত্র যদি তার বিপক্ষে যায় সেটিকেও তিনি অমান্য করেন। বৈজ্ঞানিক সত্য তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলে সেটাকেও তিনি মান্য করেন না। বিদেশী শক্তি যারা তাকে ক্ষমতায় রেখেছে শুধু তাদেরকেই তিনি মান্য করেন। বন হচ্ছে প্রকৃতির সজ্জিত বৈঠকখানা, যদি কারও ড্রয়িংরুমে গ্যাসের চুলা বসিয়ে অবিরাম রান্নাবান্না করা হয় তাহলে কেমন লাগবে ? প্রধানমন্ত্রী কতটা স্বেচ্ছাচারি হলে এমন বক্তব্য দিতে পারেন, দেশের মানুষের অনুভুতির প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে পারেন। আক্রোশমূলক এহেন বক্তব্য জাতির জন্য অপমানজনক। ইউনেস্কোসহ দেশের বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং বিশ্ব পরিবেশবাদীরা বলছেন-রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হলে গোটা সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। 

তিনি বলেন, দেশের ৯৯ ভাগ জনগণ রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের ঘোর বিরোধী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যারা কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করেছিল তারা এখন এধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্প থেকে সরে আসতে শুরু করেছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশও তাদের দেশে এধরনের প্রকল্প স্থাপন করতে দেয়নি। অথচ শুধুমাত্র প্রভুদের মন রক্ষায় সুন্দরবন ধ্বংসকারী এই প্রকল্প সরকার গায়ের জোরে এবং বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করে স্থাপন করতে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ