রবিবার ৩১ মে ২০২০
Online Edition

তিস্তার ধূ ধূ বালুচরে সবুজের সমারোহ

সুন্দরগঞ্জের তিস্তার ধূ ধূ বালুচরে চাষাবাদ হচ্ছে

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: ভরা তিস্তা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। তিস্তার ধূ ধূ বালুচর পরিনত হয়েছে সবুজের সমারহ। তিস্তার বুকে নানাবিধ ফসলের চাষাবাদ বদলে দিয়েছে প্রকৃতির রূপ। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চ-ীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসি তিস্তা নদী বর্তমানে সমতল ভূমিতে পরিনত হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত নদী খনন এবং ড্রেজিং না করায় দিনে পর দিন পলি জমি ভরে উঠেছে খরস্রোতা অগভীর তিস্তা নদী। পরিনত হয়েছে ধূ ধূ বালুচরে। নদী ভাঙনে বাপ-দাদার বসতভিটা ছেড়ে ভিন্ন জেলায় চলে যাওয়া পরিবারগুলো ফিরে এসে তিস্তার বালুচরে শুরু করেছে নানাবিধ ফসলের চাষাবাদ। বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে-ফিরে দেখা গেছে সবুজের বৈচিত্র রূপ। বিশেষ করে আলু, মরিচ, বেগুন, গম, ভূট্টু তিল, তিসি, কাউন, তামাক, পিয়াজ, রশুন, বাধা কপি, ফুল কপি, লাউ, টমেটো, সিম, বাদাম, গাজর, মূলা, ইরিবোর, নানাবিধ শাকসবজি চাষাবাদে ভরে উঠেছে ধূ ধূ বালুচর। হরিপুর রিয়াজ মিয়ার চরের কৃষক ফয়জার রহমান জানান- আজ থেকে ৫ বছর আগে তিস্তার কড়াল গ্রাসে জমি-জিরাত হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে জীবন-যাপন করছিলাম। তিস্তার বালুচর জেগে ওঠায় আবার ফিরে এসে বাপ-দাদার জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছি। চলতি মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে আলু, ১ বিঘা জমিতে পিয়াজ ও ১ বিঘা জমিতে শাক সবজি চাষাবাদ করেছি। ইতিমধ্যে আলু বিক্রি শুরু করেছি। আমি আশা করছি ৪ বিঘা জমির ফসলের আয় দিয়ে আমার ১ বছরের সংসারের খরচ চলবে। তিনি  আরও বলেন-ওই সব ফসল উঠানোর পর ইরিবোরো চাষাবাদ করবো। বেলকা ইউনিয়নের কৃষক একরামুল হক লাল মিয়া বলেন- আমি ২ বিঘা জমিতে গম এবং ১ বিঘা জমিতে বেগুন চাষাবাদ করেছি। গত ২ মাসে আমি ২০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। তিনি বলেন-অন্যান্য ফসলের চেয়ে তালতরকারির আবাদে খরচ কম লাভ বেশি। তারাপুর ইউনিনের কৃষক মোশারফব হোসেন বলেন-স্ত্রী পুত্র পরিজন নিয়ে নানাবিধ ফসলের চাষাবাদ করে আসছি। এতে করে দিন মজুর নিতে হচ্ছে না। যার কারণে নানাবিধ ফসলের চাষাবাদে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি হচ্ছে। এদিকে তিস্তা নদী বালুচরে পরিণত হওয়ায় নৌ-শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাপ-দাদার পেশা মাঝি-মাল্লা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশা জড়িয়ে পড়েছে। হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম জানান- আমার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডেই চরাঞ্চল। বর্তমানে চরাঞ্চলে নানাবিধ ফসল চাষাবাদ হচ্ছে। চরের কৃষকরা ফসল চাষাবাদ করে সংসার পরিচালনা করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশেদুল ইসলাম জানান-তিস্তার চরাঞ্চলে এখন সকল প্রকার ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে। পলি জমে উরর্বর হয়ে ওঠা বালুচরে রাসায়নিক সার প্রয়োগ ছাড়ায় ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে। কাইম এলাকার চেয়ে চরাঞ্চলে এখন বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ ভাল হচ্ছে। বিশেষ করে গম, ভূট্টা, আলু, পিয়াজ, ডালসহ ইরিবোরো চাষাবাদ বেশি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ