বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

প্রায় আড়াই কোটি টাকার সুফল পাচ্ছে না কেউই কেটে যাবে খেলার মাঠের সংকট

আব্দুর রাজ্জাক রানা : খুলনার বিভিন্ন ক্লাব, ক্রিকেট ও ফুটবল একাডেমির অনুশীলন ও নিয়মিত লীগ আয়োজনের জন্য ২০১৩ সালে তিনটি মাঠ উন্নয়নের উদ্যোগ নেয় কেসিসি। কিন্তু এসব মাঠ এখনও সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ফলে মাঠগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। এছাড়া মংলা বন্দরের মাঠ, জেলা স্কুলের মাঠ, সিএন্ডবি কলোনীর মাঠসহ বেশকিছু মাঠ রয়েছে একই অবস্থায়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি নিয়ে এসব মাঠ ব্যবহার করা গেলে খুলনার ক্রীড়াঙ্গণে মাঠের সমস্যা আর থাকতো না। দীর্ঘদিন পর সেই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ক্রীড়া সংস্থাগুলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনার বিভিন্ন ক্লাব, ক্রিকেট একাডেমির অনুশীলনের জন্য একমাত্র মাঠ সার্কিট হাউজ ময়দান। জেলা স্টেডিয়ামের আউটারে অনুশীলন করা হলেও নতুন স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজের কারণেও সেটা এখন বন্ধ। সার্কিট হাউজ মাঠটি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিসহ বহুমূখী কাজে ব্যবহার হয়। এজন্য নিয়মিত লীগ এবং অনুশীলনের জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে হয় ক্রীড়া সংগঠন ও খেলোয়াড়দের। এসব অবস্থা বিবেচনা করে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে নগরীর তিনটি মাঠ উন্নয়ন করে খেলার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাতে এই মাঠেই নিয়মিত ফুটবল লীগ, ক্রিকেট লীগ ও ক্রিকেট ক্লাব এবং একাডেমিগুলো অনুশীলন করতে পারে। এ জন্য নগরীর রেলওয়ে মাঠটি কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। প্রায় ৫০ লাখ টাকা দিয়ে মাটি ভরাট করে উঁচু করা হয়েছে পল্লীমঙ্গল স্কুল মাঠ। প্রায় ৮০ লাখ টাকা দিয়ে খালিশপুর প্রভাতি স্কুলের মাঠটিও সংস্কার করেছে কেসিসি। প্রায় আড়াই কোটি টাকা দিয়ে মাঠগুলো সংস্কার করা হলেও এসব মাঠে একটি লীগও গড়ায়নি। এছাড়া মংলা পোর্টের বড় একটি মাঠ থাকলেও তাতে ক্লাব ও একাডেমিগুলো অনুশীলন করতে পারে না। আবার বিভিন্ন কারণে সার্কিট হাউজ মাঠ বন্ধ থাকায় তাদের অনুশীলনও বন্ধ রাখতে হয়।
এ অবস্থায় সার্বিক করণীয় নিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি খুলনার স্থানীয় এমপি, ফুটবল এসোসিয়েশন ও ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় এমপি মিজানুর রহমান মিজান, ফুটবল এসোসিয়েশসের সভাপতি এডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসানসহ সংগঠকবৃন্দ। জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল আহসান সভায় সভাপতিত্ব করেন।
জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল আহসান বলেন, আমরা ছোটবেলায় যেভাবে খোলামেলা মাঠে খেলাধুলা করেছি, আমাদের আগামী প্রজন্ম সেভাবে পারছে না। তার প্রভাব পড়ছে তাদের বেড়ে ওঠায়। তিনি বলেন, খেলার মাঠের অভাব সব জায়গায়। কিন্তু যে কটি আছে তার সঠিক ব্যবহার করতে পারলে কোনো সমস্যা থাকবে না। এজন্য কেসিসি যে তিনটি মাঠ তৈরি করেছে দ্রুত সেগুলোর কাজ শেষ করে খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করা এবং খালিশপুর পোর্টসহ অন্যদের যে সব মাঠ আছে সেগুলো একাডেমি ও ক্লাবগুলোকে ব্যবহার করতে দেয়ার জন্য আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাবো। পাশাপাশি সরকারি খোলা জায়গা সেগুলো রয়েছে ২৬ ও ৩১নং ওয়ার্ডে দুটি নতুন মাঠ তৈরির বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি আমরা। এতে খেলার মাঠের আর কোনো সংকট থাকবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ